ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচারের দাবিতে মুন্সীগঞ্জে ছাত্র-জনতা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে।
শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে মুন্সীগঞ্জ শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সুপার মার্কেট এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ‘তুমি কে আমি কে? হাদি, হাদি’, ‘দিল্লি না ঢাকা? ঢাকা, ঢাকা’, ‘ফ্যাসিবাদের ঠিকানা এই বাংলায় হবে না’, ‘আমরা সবাই হাদি হবো, যুগে যুগে লড়ে যাবো’ এবং ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মুন্সীগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. হালিম হোসেন, সরকারি হরগঙ্গা কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব রোকনউদ্দৌলা রাফসান রাফি, জুলাই মঞ্চের আহ্বায়ক রায়হান রাব্বি এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক যুগ্ম সদস্য সচিব নোমান আল মাহমুদসহ অন্যরা।
বক্তারা বলেন, ভারতীয় আধিপত্যের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণেই শরীফ ওসমান হাদিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে আধিপত্যবিরোধী আন্দোলন দমিয়ে রাখা যাবে না বলে তারা হুঁশিয়ারি দেন। অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার এবং তাদের পালাতে সহায়তাকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
বক্তারা আরও বলেন, দেশের আগামী নির্বাচন বানচাল করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। গণতন্ত্রের পক্ষে থাকা সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয় সমাবেশ থেকে।
উল্লেখ্য, শরীফ ওসমান হাদি ঢাকা–৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টনের কালভার্ট রোডে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় যাওয়ার সময় তাকে গুলি করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পড়ুন- কেন্দুয়ায় হাদির হত্যার বিচার ও ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল


