জুলাই আন্দোলনের পর আওয়ামী সরকারের পতনের ধারাবাহিকতায় দেশের সরকারি-বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানের মতো পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে কক্সবাজার বেতার কেন্দ্রেও। আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ছাত্র ও সাধারণ জনতার দাবির মুখে ওই সময় আওয়ামী দোসর ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের কালো তালিকাভুক্ত করে বেতারের কার্যক্রম থেকে দূরে রাখা হয়।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে ওই কালো তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনে একটি প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বেতার সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এ চক্রটি হুমকি ধমকি দিয়ে কেন্দ্রটিতে নিজেদের অবস্থান পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাচ্ছে। এর ফলে বেতারকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন ধরনের ষড়যন্ত্র ও অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড।
সূত্র জানায়, উক্ত চক্রটি বিভিন্ন মহলে প্রভাব বিস্তার ও মিথ্যা প্রচারণার মাধ্যমে বেতারের বর্তমান কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। নিয়মিত অনুষ্ঠান সম্প্রচারে বিঘ্ন ঘটাতে এবং কেন্দ্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে তারা গোপন যোগাযোগ, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোয় লিপ্ত রয়েছে।
কক্সবাজার বেতারে শিল্পী আজম শাহ্ বলেন, “আমরা স্বাধীনভাবে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে চাই। কিন্তু এখন যারা অতীতে দলীয় সুবিধা নিয়ে বেতারে আধিপত্য বিস্তার করেছিল, তারা আবারও ফিরে আসার চেষ্টা করছে। এতে আমাদের কর্মপরিবেশে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।”
কলাকুশলী সৈকত নন্দি ও রবিন চৌধুরী জানান, “বেতার একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক প্রভাবের কেন্দ্র নয়। কিন্তু কিছু গোষ্ঠী বেতারকে তাদের ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করতে চাইছে। এতে সাধারণ শিল্পীরা হতাশ হয়ে পড়ছেন।”
বেতার কেন্দ্রের একজন কর্মকর্তা বলেন, বর্তমানে কক্সবাজার বেতার নিয়মিত সম্প্রচারে সাফল্যের সঙ্গে কাজ করছে। কিন্তু কিছু ব্যক্তির পুনর্বাসনের নামে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টায় কর্মীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
এ বিষয়ে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রবীণ সংগঠক আবু হায়দার ওসমানী বলেছেন, “বেতার জাতীয় ঐক্য ও সংস্কৃতির প্রতীক। এখানে যদি রাজনৈতিক পুনর্বাসনের চেষ্টা হয়, তাহলে তা দেশের সংস্কৃতি বিকাশের জন্য ভয়ংকর উদাহরণ হয়ে থাকবে।”
কক্সবাজার বেতার কেন্দ্র এখন এক জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে বেতারের উন্নয়ন ও সম্প্রচারের গতি ধরে রাখার প্রয়াস, অন্যদিকে কালো তালিকাভুক্তদের পুনর্বাসন নিয়ে ষড়যন্ত্র। এর ফলে কেন্দ্রের ভেতরে ভয়, শঙ্কা ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ বিরাজ করছে।
সংস্কৃতি সংশ্লিষ্টরা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “বেতারকে রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত রেখে প্রকৃত সাংস্কৃতিক কর্মীদের জন্য নিরাপদ ও সৃজনশীল পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।”
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

