21.6 C
Dhaka
০৩/০৩/২০২৬, ৩:২৯ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

কড়াইল বস্তির আগুনে পুড়ল ১৫শ ঘর, সব হারিয়ে নিঃস্ব তারা

পাঁচ ঘণ্টার চেষ্টায় রাজধানীর কড়াইল বস্তির ভয়াবহ আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ইউনিট রাত সাড়ে দশটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হলেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে পুড়ে গেছে প্রায় ১৫শ ঘর। আগুনের কারণ অনুসন্ধানে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় লাগা আগুন মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে কড়াইল বস্তির বউবাজার অংশে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হওয়ায় আগুন দ্রুত দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে। খবর পেয়ে শুরুতে ফায়ার সার্ভিসের ১১টি ইউনিট এবং পরে আরও ৯টি ইউনিট যোগ দেয় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজে।

ঘিঞ্জি এলাকা ও উৎসুক জনতার ভিড়ের কারণে আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসকে বেগ পেতে হয়। ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন গণমাধ্যমকে বলেন, “ফায়ার সার্ভিসের ১৯টি ইউনিট কাজ করে রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে।” তিনি বলেন, বস্তির ঘিঞ্জি এলাকা এবং ঘটনাস্থলে তীব্র পানি সংকটের কারণে আগুন নেভাতে কর্মীদের ব্যাপক বেগ পেতে হয়েছে।

ভয়াবহ আগুনে ছাই হয়ে গেছে বস্তিবাসীর ঘরবাড়ি। সব হারিয়ে নিঃস্ব মানুষের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে কড়াইল এলাকা। আগুনে ঘর হারানো এক নারী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “৭ বছর ধরে এই বস্তিতে আছি। কিস্তিতে কেনা সব জিনিস চোখের সামনে পুড়ে গেল। এখন আমাদের পথে বসতে হবে।”

আগুনে সব হারিয়েছি, মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই

লাভলী বেগম, সাত বছর ধরে কড়াইল বস্তিতে বসবাস করছেন। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত এই নারী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আগুনে আমাদের সব হারিয়েছি। কিস্তিতে কেনা জিনিস, কিছু জমানো টাকা, কাপড় সব কিছু পুড়ে গেছে। এখন আমাদের বাচ্চারা কোথায় ঘুমাবে, আমরা জানি না। পানিতে ভেজার কারণে তারা শীতে কাঁপতে শুরু করেছে। আমরা সাহায্য চাই, নিরাপদ আশ্রয় চাই।

তার পাশে থাকা ভ্যান চালক স্বামী মোহসিন আলী বলেন, আগুন লাগার সময় আমি একটা ভাড়া নিয়ে গিয়েছিলাম। যখন খবর পেলাম সব ফেলে রেখে দৌড়ে এলাম। কিন্তু সেই মুহূর্তে আর কিছুই করতে পারিনি। আমাদের ঘর, আমাদের সব সম্পদ শেষ হয়ে গেছে।

শামসুল ইসলাম নামে আরেক দিনমজুর জানান, মাত্র দুই মাস আগেই তিনি এই বস্তিতে উঠেছেন। তিনি বলেন, আগুনে আমার নতুন জিনিসপত্র সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুন এত তীব্র ছিল যে আমরা কোনো জিনিসই রক্ষা করতে পারিনি। চারিদিক ধোঁয়া আর আগুনে ঘিরে আমাদের বের হতে অনেক কষ্ট হয়েছে।

সারারাত কীভাবে কাটালেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা বড় মানুষ, আমাদের নিয়ে কোনো সমস্যা হয়নি। সমস্যা হচ্ছে বাচ্চাদের নিয়ে। তারা তার ফুফুর সঙ্গে খামারবাড়ি মাঠের পূর্ব পাশে এক জায়গায় বিছানা করে শুয়ে ছিল। এভাবেই রাত কাটা তাদের।

খাবার-পানির অভাবে চরম কষ্টে ক্ষতিগ্রস্তরা

এদিকে আগুনে বাড়ি-ঘর সব পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোতে খাবার এবং পানির সংকট দেখা দিয়েছে। পরিবারের পুরুষ অভিভাবক আগুন এবং ক্ষয়-ক্ষতি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় নারী ও শিশুদের খাবারের সংকটে পড়তে দেখা গেছে। তবে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি এবং জামায়াতসহ কিছু রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মীরা অস্থায়ীভাবে খাবার ও পানি পৌঁছে দিচ্ছে। তবে সংখ্যা কম এবং বিতরণ সব পরিবারে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অনেকেকই পরিবারের নারী-শিশুদের খালি পেটেই রাত কাটাতে হয়েছে।

লাভলী বেগম নামে এক নারী বলেন, আমরা আশ্রয়হীন, শীতের মধ্যে শিশুদের কী হবে তা ভেবে আমাদের নিঃশ্বাসও ওঠে না। খাবারের ব্যবস্থা নেই, পানি নেই। বাচ্চারা না খেয়েই কান্না করে করে ঘুমিয়েছে।

পড়ুন: গাজায় ২ বছরে ৩৩ হাজার নারী-শিশু হত্যা করেছে ইসরায়েল: ফিলিস্তিন

আর/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন