উজান থেকে নেমে আসা ঢলে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার ১২ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তার পানি বিপদসীমার নিচে নেমেছে। বুধবার (৩০ জুলাই) সকাল ৯টায় হাতীবান্ধার তিস্তা ব্যারেজ ডালিয়া পয়েন্টে পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ৭ মিটার, যা বিপদসীমা (৫২ দশমিক ১৫ মিটার) থেকে ৮ সেন্টিমিটার নিচে।
এর আগে মঙ্গলবার রাত ৯টায় তিস্তার পানি বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। হঠাৎ পানি বৃদ্ধিতে তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়ে। হাজারো পরিবার পানিবন্দি হয়ে গেছে। ডুবে গেছে চরাঞ্চলের রাস্তাঘাট, আমন ধান ও শাকসবজির মাঠ। সড়কপথের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নৌকা ও ভেলাই এখন একমাত্র চলাচলের মাধ্যম। পুকুর ডুবে যাওয়ায় ভেসে গেছে চাষিদের মাছও।
বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, বুধবার সকাল ৯টায় কাউনিয়া পয়েন্টে পানির সমতল ছিল বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার নিচে এবং ধরলা নদীর শিমুলবাড়ি পয়েন্টে বিপদসীমার ২০২ সেন্টিমিটার নিচে রেকর্ড করা হয়েছে।
পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও সদর উপজেলার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা হলো,পাটগ্রামের দহগ্রাম, গড্ডিমারী, দোয়ানী, ছয়আনী, সানিয়াজান, সিঙ্গামারি, সিন্দুর্না, হলদিবাড়ী ও ডাউয়াবাড়ী; কালীগঞ্জের ভোটমারী, শৈইলমারী ও নোহালী; আদিতমারীর মহিষখোচা, গোবর্ধন, কালমাটি, বাহাদুরপাড়া ও পলাশী; সদর উপজেলার ফলিমারী, খুনিয়াগাছ, কুলাঘাট, মোগলহাট, রাজপুর, বড়বাড়ী ও গোকুন্ডা ইউনিয়ন।
খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের বাসিন্দা নুরজাহান বেগম বলেন, হঠাৎ পানি বেড়ে গেছে। অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। রাস্তা-ঘাট পানিতে ডুবে গেছে।
আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের গোবরধন গ্রামের তোকদার হোসেন বলেন, রাত থেকে পানি বাড়তে থাকায় রান্না বন্ধ হয়ে গেছে। সকাল থেকে না খেয়ে আছি। এখনো জনপ্রতিনিধি বা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো খোঁজ নেওয়া হয়নি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) লালমনিরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী শুণীল কুমার বলেন,গতরাতে তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। নিম্নাঞ্চল অনেকগুলো প্লাবিত হয়েছে। আজ সকাল থেকে পানি কমছে।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার বলেন, নদীতীরবর্তী এলাকা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত ত্রাণের ব্যবস্থা রয়েছে। পানিবন্দি মানুষের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে, দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হবে।
পড়ুন: তিস্তায় পানি বাড়তে থাকায় বাংলাদেশে সতর্কতা, ভারতে রেড অ্যালার্ট
এস/


