বিজ্ঞাপন

কয়লার কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যাচ্ছে ভৈরব, ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা কার্যক্রম

ভৈরবে কয়লার ধোঁয়া ও ধুলায় বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত সহ বিপর্যয়ের মুখে পরিবেশ ও গাছপালা।

বিজ্ঞাপন

শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যালয় ও কেপিআই এলাকা থেকে কয়লা অন্যত্র সরিয়ে শিক্ষাঙ্গণ সহ এলাকার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সরকার যেন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়। এদিকে স্থানীয় প্রশাসন বলছে, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

ভৈরবে রেলওয়ে উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে ও মেঘনা নদীর পাড়ে কে,পি আই এলাকায় দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে কয়লা মজুত করেছে ব্যবসায়ীরা। এতে কয়লা থেকে নির্গত কালো ধোয়া ও অ্যামোনিয়া গ্যাস এবং বাতাসে কয়লার ধুলো স্কুলের ক্লাস রুমে ঢুকে শিক্ষার্থীরা শ্বাসকষ্ট, সর্দি, কাশি, এলার্জিসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহতসহ আশ-পাশের গাছপালা নষ্ট হয়ে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। শুধু বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই নয় মেঘনা পাড়ে রেলওয়ে কলোনী সহ স্থানীয় বাসিন্দারা ও এসব শ্বাস কষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে পরিশে দূষণ হচ্ছে। তাই পরিবেশ দূষণ রোধে ও শিক্ষার্থীদের পাঠদান সহ সুস্থ জীবন-যাপনের জন্য কয়লা অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান ।

তবে ব্যবসায়ীরা জানান, বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ মোকাম-এ কয়লার ব্যাবসা। ইন্দোনেশিয়া, আফ্রিকা থেকে জাহাজে করে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার কয়লা ভৈরবে আমদানি করা হয়। এখান থেকে সড়ক ও নৌ-পথে দেশের বিভিন্ন জেলায় ইট ভাটায় কয়লা সরবরাহ করা হয়। এ পেশার সাথে লক্ষাধিক মানুষ জড়িত। কিন্তু কয়লা মজুত করার মতো পর্যাপ্ত জায়গা না থাকার কারণে তারা রেলওয়ে ভ’-সম্পত্তি বিভাগ থেকে জায়গা ভাড়া এনে কয়লা মজুত করছে ।

স্থানীয়রা জানান,কেপিআই এলাকায় রেলওয়ের ভ’-সম্পত্তি বিভাগ কৃষি লীজ কিভাবে দিলো? কৃষি লিজ এনে ব্যবসায়ীরা দাহ্য পদার্থ রেখে পরিবেশ ও মানুষের ক্ষতি করছে।তাই, পরিবেশ দূষণ মুক্ত করতে এবং শিক্ষার্থী ও জনগণের সুস্থ জীবন-যাপনের জন্য এ স্থান থেকে কয়লা সরিয়ে নিতে সরকারের কাছে দাবি জানান।

এ বিষয়ে ভৈরব বাজার ঘাটের রেলওয়ে ঊর্ধ্বতন উপর-সহকারী প্রকৌশলী শেক মোয়াজ্জেম হোসেন ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। তবে তিনি জানান, কয়লা মজুত রাখার কারণে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে তাই কয়লা সরিয়ে নিতে কয়লা সমিতির সভাপতি/সম্পাদককে গত ৩০ অক্টোবর লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। তা ছাড়া রেলওয়ে বিভাগীয় কর্মকর্তাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে শিক্ষার্থী, তানিয়া বেগম,মুনিরা বেগম,পারভেজ মিয়া সহ বেশ কয়েক জন শিক্ষার্থীরা জানান, স্কুলের পাশে কয়লা মজুত করায় কয়লা থেকে নির্গত কালো ধোয়া ও এ্যামুনিয়া গ্যাস এবং বাতাসে কয়লার ধুলো স্কুলের ক্লাস রুমে ঢুকে তারা শ্বাসকষ্ট, সর্দি কাশি, এলার্জিসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহতসহ আশ-পাশের গাছপালা নষ্ট হয়ে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। সরকার যেন দ্রত এখান থেকে কয়লা অপসারণ করে অন্যত্র সরিয়ে নেয়।

এ বিষয়ে ব্যবসায়ী আক্তার হোসেন জানান, কয়লার ধুলা-বালিতে কেপিআই এলাকাসহ আশপাশের পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। আমরা ব্যাবসা-বাণিজ্য করতে খুবই অসুবিধা হচ্ছে। কীভাবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কেপিআই এলাকা লিজ দেয়?

এ বিষয়ে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কিশোর কুমার ধর জানান, কয়লার বিষাক্ত ধোঁয়া থেকে শ্বাসকষ্ট এমনকি ক্যানসার ও হতে পারে। তাই পরিবেশ দূষণ মুক্ত ও শিক্ষার্থীদের রোগ মুক্ত রাখতে এ স্থান থেকে কয়লা অন্যত্র সরিয়ে নিতে সরকারের কাছে দাবি জানান।

এ বিষয়ে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম মামুনুর রশীদ জানান, দীর্ঘদিন ধরে কে পি আই এলাকায় কয়লা ব্যবসায়ীরা জায়গা রেলওয়ে থেকে লিজ এনে কয়লা মজুত রাখছে। তবে রেলওয়ে কর্মকর্তাদের সাথে এ বিষয়ে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পড়ুন:রূপগঞ্জ উপজেলা কৃষকদলের সভাপতির স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদে ৬ ইউনিয়ন কৃষকদলের কমিটি থেকে পদত্যাগ

দেখুন:রূপগঞ্জ উপজেলা কৃষকদলের সভাপতির স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদে ৬ ইউনিয়ন কৃষকদলের কমিটি থেকে পদত্যাগ

ইমি/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন