চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার সেনেরহুদা গ্রামের পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্মচারী গাফফার আলী আকাশ হত্যা মামলার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।
আজ রবিবার (১ জুন) সকালে উথলী রেলস্টেশনে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে শতাধিক মানুষ অংশ নেন।
সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত দেড় ঘণ্টাব্যাপী চলা মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা রাজশাহীগামী আন্তঃনগর কপোতাক্ষ ট্রেন আটকে রেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এতে ট্রেনটি প্রায় ৩০ মিনিট স্টেশনে আটকে পড়ে। পরে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে ট্রেনটি ছেড়ে যায়।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন উথলী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, জান্নাতুল খাদরা দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক মহিউদ্দিন এবং নিহত আকাশের বাবা জিন্নাত আলী। বক্তারা বলেন, “আকাশকে চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। অথচ ঘটনাটি দুর্ঘটনা বলে চালানোর চেষ্টা চলছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
পরে কপোতাক্ষ ট্রেনের পরিচালক মো. মাহবুবুর রহমানের হাতে একটি লিখিত অভিযোগপত্রও হস্তান্তর করা হয়।
এর আগে গত ২১ মে জয়রামপুর আখ সেন্টারের কাছে রেললাইনের পাশে পড়ে থাকা অবস্থায় গাফফার আলী আকাশের (২৬) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি চুয়াডাঙ্গা পানি উন্নয়ন বোর্ডে অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পরিবারের দাবি, টিকিট ও ভাড়াবিষয়ক বিতর্কে রেলওয়ে পুলিশ, টিটিই ও এটেনডেন্টরা মিলে আকাশকে ট্রেন থেকে ফেলে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা জিন্নাত আলী ৫ জনকে আসামি করে চুয়াডাঙ্গা আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
আসামিরা হলেন— টিটিই লালন চক্রবর্তী, রেলওয়ে পুলিশের এসআই পারভেজ, কনস্টেবল কাদের, এটেনডেন্ট মিলন ও সোহাগ মিয়া।
মামলায় চারজন যাত্রী সাক্ষ্য দিয়েছেন এবং এক প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে পরিবারের কথোপকথনের কল রেকর্ডও সংরক্ষিত আছে। রেকর্ডে বলা হয়, “আকাশকে কয়েকজন দরজার দিকে টেনে নিয়ে যায় এবং ট্রেন চলার সময় ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়।”
এলাকাবাসীর দাবি, আকাশ হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে, না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তারা।
উল্লেখ্য, বুধবার (২১ মে) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জয়রামপুর রেলস্টেশনের কাছে আখ সেন্টার এলাকায় চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে গাফ্ফার আলি আকাশ (২৯) নামে এক যুবক নিহত হয়। তিনি চুয়াডাঙ্গা পানি উন্নয়ন বোর্ডে অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেসময় খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনাটি দুর্ঘটনা, না অন্য কিছু—তা রহস্য ঘনিভুত হয়। এরপর আকাশের পরিবার আদালতে হত্যা মামলা করে। নিহত আকাশের বাড়ি জীবননগর উপজেলার সেনেরহুদা গ্রামে।
এনএ/


