নেত্রকোনার কলমাকান্দায় পরিবারের সদস্যদের সামান্য অসতর্কতায় পুকুরের পানিতে ডুবে সায়ফা আক্তার নামে দেড় বছর বয়সী এক অবুঝ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (০৭ এপ্রিল) বিকেল প্রায় ৪টার দিকে উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের টেঙ্গা গ্রামে হৃদয়বিদারক এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিশু সায়ফা ওই গ্রামের শাহিন মিয়ার মেয়ে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেলের দিকে শিশু সায়ফা বাড়ির উঠানেই খেলাধুলা করছিল। পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা সেসময় দৈনন্দিন কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এরই মাঝে সবার অজান্তে চোখের পলকেই শিশুটি নিখোঁজ হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর সন্তানকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের লোকজনের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
তাৎক্ষণিকভাবে বাড়ির আশপাশে ও সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন স্বজনরা। একপর্যায়ে বসতঘরের আঙিনার পাশেই থাকা পুকুরের পানিতে শিশুটিকে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান তারা।
পুকুর থেকে দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করে পরিবারের লোকজন তাকে বাঁচানোর শেষ চেষ্টায় কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ছুটে যান। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. বনশ্রী বনিক চৈতি পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে শিশু সায়ফাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতাল চত্বরে স্বজনদের কান্নায় হৃদয়বিদারক এক দৃশ্যের অবতারণা হয়। আদরের সন্তানকে হারিয়ে পাগলপ্রায় শিশুটির বাবা-মা।
কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সিদ্দিক হোসেন এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং হৃদয়স্পর্শী। শিশুদের ক্ষেত্রে মুহূর্তের অসতর্কতাও যে কতটা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, এটি তারই একটি দৃষ্টান্ত।”
এ সময় তিনি স্থানীয় অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে একটি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, “সামনেই বর্ষাকাল আসছে, এ সময় বাড়ির চারপাশের খাল-বিল ও পুকুরগুলো পানিতে ভরে যায়। তাই আমাদের প্রতিটি পরিবারকে শিশুদের প্রতি আরও বেশি যত্নশীল ও সতর্ক হতে হবে। শিশুদের কোনোভাবেই একা বাড়ির বাইরে বা জলাশয়ের ধারে যেতে দেওয়া যাবে না।”
গ্রামাঞ্চলে পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর হার কমানোর জন্য অভিভাবকদের সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

