দেশের বিভিন্ন নৌ-পথগুলোতে স্পিডবোট যাত্রীদের ভাড়া নির্ধারণের পর গত তিনদিন ধরে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে যাত্রীবাহী স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রয়েছে। সরকার ভাড়া নির্ধারণ করে দেওয়ার পর গত সোমবার থেকে বিগত তিনদিন চালকরা স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রাখায় ভোগান্তিতে পড়েছেন এই নৌপথে চলাচলকারী যাত্রীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২৮ এপ্রিল (সোমবার) নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন (পারমিট, সময়সূচি ও ভাড়া নির্ধারণ) বিধিমালা, ২০১৯ এর বিধি ২৭ মোতাবেক স্পিডবোটে যাত্রী পরিবহনের জন্য কিলোমিটার প্রতি এবং নৌ-রুটভিত্তিক যাত্রী ভাড়া নির্ধারণ করে।সারাদেশের বিভিন্ন নৌ-রুটে স্পিডবোটের ভাড়া নির্ধারণ করে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে কাপ্তাই হ্রদের রাঙামাটি জেলা শহরের ফিসারীঘাট থেকে মারিশ্যা (বাঘাইছড়ি উপজেলা) পর্যন্ত ভাড়া ৮০০ টাকা, মাইনীমুখ (লংগদু উপজেলা) পর্যন্ত ভাড়া ৪৫০ টাকা, জুড়াছড়ি উপজেলা পর্যন্ত ৩২০ টাকা এবং বরকল উপজেলা পর্যন্ত ৩৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু প্রজ্ঞাপন জারির আগে এসব রুটে ভাড়া নেওয়া হতো মারিশ্যা পর্যন্ত ১ হাজার টাকা, মাইনী পর্যন্ত ৬৫০ টাকা, জুরাছড়ি ও বরকলে ৫০০ টাকা হারে।
এ নৌরুটে নিয়মিত চলাচলকারী মাইনীমুখ বাজারের ব্যবসায়ী কামরুল হাসান জানান, এখন শুষ্ক মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদের পানি কমে যাওয়ায় লঞ্চে যাতায়াত করতে অনেক সময় লাগে। স্পিডবোটে কম সময়ে সহজে যাতায়াত করা যায়। কিন্তু গত তিনদিন ধরে স্পিডবোট বন্ধ রয়েছে। এতে যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছে। দুপুর আড়াইটার পরে আর লঞ্চে না থাকায় অনেকেই বাধ্য হয়ে জেলা শহরে থেকে যাচ্ছে। স্পিডবোট চলাচল করলে সকালে জেলার অফিস আদালতের কাজ শেষ করে লোকজন বিকালে এমনকি রাতেও স্পিডবোটে ফেরত যেতে পারতেন।
রাঙামাটি স্পিডবোট মালিক সমিতির নেতারা জানায়, নৌ-মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে উল্লেখিত ভাড়ার তালিকা দেখে যাত্রীরা বর্তমান ভাড়ার পরিবর্তে নতুন তালিকা অনুযায়ী ভাড়া নেওয়ার জন্য চাপ তৈরি করে, ফলে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রয়েছে। কারণ নতুন তালিকা অনুযায়ী ভাড়ায় আমাদের পেট্রল খরচও উঠবে না বলে অভিযোগ তাদের।
স্পিডবোট মালিক সমিতির লাইনম্যান এসকান্দর আলী জানান, মন্ত্রণালয়ের ভাড়ার তালিকায় কিলোমিটারের হিসেবে ভুল আছে। রাঙামাটি থেকে মাইনীর দূরত্ব ৭০ কিলোমিটার। দূরত্ব হিসেবে ভাড়া হয় ৬৪০ টাকা কিন্তু বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ আছে ৪৫০ টাকা। এই ভাড়ায় স্পিডবোট চালানো কোনোভাবেই সম্ভব না।
কবে নাগাদ এই সমস্যার সমাধান হতে পারে- এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্পিডবোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস জানান, আমরা ন্যায্য ভাড়া নিয়ে সেবা দিচ্ছি, তবে নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের ভুলে এমন সমস্যা তৈরি হয়েছে। এভাবে ভাড়া নিলে আমাদের লোকশান দিয়ে চালাতে হবে। আমরা নিরুপায় হয়ে বোট বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছি। নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ তাদের ভুল সংশোধন করে নতুন প্রজ্ঞাপন দিলেই আমরা সেবা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছি।
এদিকে, লংগদু উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কফিল উদ্দিন মাহমুদ বলেন, এ বিষয়ে স্থানীয় অনেকেই যোগাযোগ করেছে। তারা সবাই নতুন ভাড়া কার্যকর চায়। তবে স্পিডবোটের কার্যক্রম জেলা থেকে পরিচালিত হয়। আমি জেলা প্রশাসক স্যারকে অবগত করেছি। আশা করি শীঘ্রই এ সমস্যার সমাধান হবে।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

