ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে সরবরাহ বন্ধের কারণ দেখিয়ে ফিলিং স্টেশনগুলোতে দেখা দিয়েছে জ্বালানি তেলের সংকট। অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেল পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করছেন তেল ক্রেতারা।
সোমবার (০৯ মার্চ) দুপুরের দিকে কালীগঞ্জ উপজেলার ৮টি পাম্পের মধ্যে মাত্র একটিতে পেট্রোল বিক্রি করতে দেখা গেছে। অন্য সব ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেল সরবরাহ নেই লিখে ব্যানার টাঙানো হয়েছে।
ক্রেতারা অভিযোগ করেন, কালীগঞ্জের একটি পাম্পেও ঠিকমতো পেট্রোল অকটেন পাওয়া যাচ্ছে না। সোমবার দুপুরের দিকে মাত্র একটি পাম্পে শুধুমাত্র পেট্রোল পাওয়া যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে কৃত্রিম সংকট দেখানো হচ্ছে। আমেরিকা-ইসরাইল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার আশায় তেল বিক্রি বন্ধ করে অবৈধ মজুদ করেছে পাম্পের মালিকগুলো। তবে এ ব্যাপারে প্রশাসনের কোন তদারকি নেই। দ্রুত এ ব্যাপারে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবি করছেন ক্রেতারা।
জ্বালানি তেল কিনতে আসা রাফি হোসেন নামে এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, শহরের এসআর তেল পাম্পে
মোটরসাইকেলের জন্য অকটেন কিনতে আসি। কিন্তু এসে শুনি তেল নাই। অন্য তেল পাম্পে গিয়েও তেল না পেয়ে বাড়ি চলে যাচ্ছি।
শরিফুল ইসলাম নামে আরও এক ব্যক্তি বলেন, সরকার বলছে তেলের কোন সংকট নেই কিন্তু পাম্পগুলো জ্বালানি তেল পাওয়া যাচ্ছে না। অধিক লাভের আশায় হয়তো অসাধু পাম্প মালিকরা কৃত্রিম সংকট করছে। এ ব্যাপারে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো উচিৎ।
শহরের বৈশাখী ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার লেন্টু হোসেন বলেন, খুলনার ডিপো থেকে আমাদের চাহিদামতো তেল সরবরাহ করছে না। গতকাল ৯ হাজার লিটারের একটি চাহিদা পাঠালেও মাত্র ৩ হাজার লিটার ডিজেল ও এক হাজার লিটার পেট্রোল পেয়েছি। সেই তেলই বিক্রি করছি।
কালীগঞ্জের তিনটি পাম্পের মালিক সাহেদ কবির লিমন বলেন, ডিপো থেকে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। তিনটি পাম্পের কোনটিতে পেট্রোল-অকটেন নেই। শুধুমাত্র একটি পাম্পে ডিজেল বিক্রি হচ্ছে। তেল পাওয়া মাত্রই বিক্রি শুরু করবো।
কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মাহাবুব আলম রনি বলেন, তেল সংকটের বিষয়টি আমরা মনিটরিং করি না। তবে ডিজেল সংকটের কোন অভিযোগ আমার কাছে আসেনি।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, আমি এখনো এ বিষয়ে অবগত নয়। ইফতারের পর খোঁজ নিতে সহকারী কমিশনারকে পাঠাবো।
পড়ুন : ঝিনাইদহে বাসে আগুন ও পাম্প ভাঙচুরের ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৭ নেতা গ্রেফতার


