ভারতীয় সংগীতজগতের কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলে আর নেই। মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
গানের ভুবনে অমর এক নাম আশা ভোঁসলে। তবে তার ব্যক্তি জীবন ছিলো নানা বেদনা-বিষাদ ও ভাঙনের কষ্টে জর্জরিত। সেসব ডিঙিয়েই তিনি পাড়ি দিয়েছেন দীর্ঘ ৯২ বছরের জীবন। গানে গানে পেয়েছে আকাশ ছোঁয়া সাফল্য।
জীবনের শুরুটা ছিল নানা টানাপড়েন আর পারিবারিক দ্বন্দ্বে ভরা ছিলো আশা ভোঁসলের। মাত্র ১৬ বছর বয়সে গণপতরাও ভোঁসলের সঙ্গে বিয়ে করেন তিনি। বয়সের বড় ব্যবধান এবং পারিবারিক অমত এই সম্পর্ককে ঘিরে জটিলতা তৈরি করে।
এক পুরনো সাক্ষাৎকারে আশা ভোঁসলে জানান, তারা প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন। তবে পরিবার এই সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি। বিশেষ করে তার দিদি লতা মঙ্গেশকর এই সম্পর্কের বিরোধিতা করেছিলেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শ্বশুরবাড়িতে একজন গায়িকাকে পুত্রবধূ হিসেবে মেনে না নেওয়ার বিষয়টিও তার জীবনে বড় চাপ তৈরি করে। বিশেষ করে ভালোবেসে বিয়ে করা স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিল টানাপড়েন ও মানসিক চাপপূর্ণ।

তার অভিযোগ অনুযায়ী, দাম্পত্য জীবনে তিনি দীর্ঘদিন মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন এবং অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায়ও তাকে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। পরে তিনি ফিরে আসেন নিজের পরিবারের কাছে। এই কঠিন সময় পার করে তিনি নিজের ক্যারিয়ার এবং জীবনকে নতুনভাবে গড়ে তোলেন। এই সংসারে তিনি হেমন্ত, বর্ষা এবং আনন্দ ভোঁসলে নামের তিন সন্তানের জননী ছিলেন।
এরপর তিনি সংগীতঙ্গ আর ডি বর্মণকে বিয়ে করেন ১৯৮০ সালে। সেই সম্পর্ক আর ডি বর্মণের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত টিকেছিলো।
দুর্ভাগ্য হলো দুবার বিধবা হয়েছিলেন আশা ভোঁসলে। তবে এটাকে সবচেয়ে বড় দুর্ভাগ্য মনে করতেন না তিনি। প্রকৃতির নিয়মে সবাইকেই একদিন চলে যেতে হয়, সেই কথা ভেবে গনপত রাও ভোঁসলে এবং রাহুল দেব বর্মনের মৃত্যুকে মেনেই নিয়েছিলেন। তবে সবসময় তিনি কষ্ট পেতেন রাহুল দেব বর্মন মারা যাওয়ার পর মিডিয়ার ভূমিকার জন্য।
দ্বিতীয় বিয়ে করার সময় সন্তানরা বড় হয়ে গেছে বলে খুব সংক্ষেপে আনুষ্ঠানিকতা সেরেছিলেন। পঞ্চমের মৃত্যুর পর সেটাই কাল হলো। এমন কথাও প্রচার করা হলো যে আশাজী আসলে রাহুল দেব বর্মনকে বিয়েই করেননি। ভাগ্যিস খুব ঘরোয়াভাবে হলেও আনুষ্ঠানিকতাটা সেরেছিলেন! আর্য সমাজের নিয়ম অনুযায়ী বিয়ে করার পর রেজিস্ট্রিও করিয়েছিলেন। অপপ্রচার বন্ধ করার জন্য এক পর্যায়ে বিয়ের সার্টিফিকেটটাও দেখাতে হয়। সে কথা কখনো ভোলেননি তিনি।


