কিছু বিচ্ছিন্ন অনিয়ম ও পর্যবেক্ষকদের কাজে বাধার ঘটনা ঘটলেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামগ্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ, সহিংসতামুক্ত এবং সুষ্ঠু পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। সংস্থাটি মনে করে, পূর্ববর্তী নির্বাচনের তুলনায় এবারের নির্বাচন ছিল বেশি নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন তুলে ধরেন এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম।
এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণের জন্য আমরা দেশের ৬৪ জেলায় ৫৬৫ জন পর্যবেক্ষক নিয়োগ করি। এসব পর্যবেক্ষক ১০০টি আসনের ১ হাজার ৭৩৩টি ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। এর মধ্যে ৩৪৭ জন পর্যবেক্ষক ভোট গণনার সময় সরাসরি উপস্থিত থেকে গণনা কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন। তবে অন্তত ৪৮ জন পর্যবেক্ষককে ভোট গণনা কক্ষে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি বা বাধার মুখে পড়তে হয়েছে।
তিনি বলেন, সারাদেশে ভোট গ্রহণ সামগ্রিকভাবে সুষ্ঠু হলেও অন্তত ২১টি কেন্দ্রে কিছু অনিয়মের প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। সিলেট–৪ আসনের কাগাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে একটি রাজনৈতিক দলের কর্মীদের কেন্দ্র দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সুনামগঞ্জের একটি কেন্দ্রে পর্যবেক্ষককে হেনস্থা করে বের করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। হবিগঞ্জ–৩ আসনের একটি কেন্দ্রে পর্যবেক্ষকদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। ভোলার কিছু কেন্দ্রে হামলা ও ভোট জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া বরিশাল বিভাগের কয়েকটি কেন্দ্রে ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, ময়মনসিংহ বিভাগের একটি কেন্দ্রে ৩০০ ব্যালট পেপার ছিনতাই এবং কিছু কেন্দ্রে ব্যালট বাক্সের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খোলা থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইসলামপুর থানার গাইবান্দা ইউনিয়নের কয়েকটি কেন্দ্রে অস্বাভাবিক হারে ভোট পড়ার তথ্য পাওয়া গেছে। একটি কেন্দ্রে দুপুর ২টার মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানানো হলেও প্রিজাইডিং কর্মকর্তা এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি।
রংপুর, কুমিল্লা, রাজশাহী, ঢাকা ও গাজীপুরের কিছু কেন্দ্রে পর্যবেক্ষকদের প্রবেশে বাধা, গণনা পর্যবেক্ষণে প্রতিবন্ধকতা এবং মৌখিকভাবে হেনস্থার ঘটনা ঘটেছে। কিছু কেন্দ্রে ভোটের আগে ব্যালট পেপারে স্বাক্ষর ও সিল দেওয়ার অভিযোগ এবং ভোটারদের ভোট আগে দেওয়া হয়ে যাওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। যদিও কয়েকটি ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।
ইজাজুল ইসলাম বলেন, তবে এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনার বাইরে বড় ধরনের সহিংসতা বা গুরুতর অনিয়ম আমাদের পর্যবেক্ষণে আসেনি। সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে নির্বাচনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও ভোটারদের শান্তিপূর্ণ অংশগ্রহণের জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আশাকরি ভবিষ্যতেও এই সহনশীল রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় থাকবে। পাশাপাশি যেসব অনিয়ম ও সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত হয়েছে, সেগুলো নিরসনে সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এইচআরএসএসের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামান, প্রোগ্রাম অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম এবং ডকুমেন্টেশন অফিসার আব্দুল কাদের।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

