বিজ্ঞাপন

কিডনি ভালো রাখে ৩ প্রাকৃতিক পানীয়

কিডনি শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যা বর্জ্য ও বিষাক্ত পদার্থ ফিল্টার করে আমাদের সুস্থ রাখে। বয়স, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, মদ্যপান ইত্যাদি কারণে কিডনি কখনো কখনো দুর্বল হয়ে যেতে পারে, যার ফলে এর কার্যকারিতা কমে যায়। ধীরে ধীরে তা দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের দিকে নিয়ে যেতে পারে, যা জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ এবং জীবনের মানকেও মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করে।

বিজ্ঞাপন

কিডনি সুস্থ রাখার ক্ষেত্রে আমরা বেশি পানি পান করার কথা শুনেছি, যা অবশ্যই সহায়ক। তবে এর পাশাপাশি আরও তিনটি প্রাকৃতিক পানীয় রয়েছে, যেগুলো কিডনির কার্যকারিতা উন্নত করতে সাহায্য করে।

পুদিনা পাতার সঙ্গে আদা মিশিয়ে খেলে তা শুধু হজমেই সহায়তা করে না, বরং মূত্রনালীর স্বাস্থ্যও ভালো রাখে। আদায় থাকা জিঞ্জেরল ও অন্যান্য বায়োঅ্যাক্টিভ যৌগ প্রদাহবিরোধী হিসেবে কাজ করে, কিডনির ফোলাভাব ও অস্বস্তি কমায়। অন্যদিকে, পুদিনা প্রস্রাবের জ্বালা কমায় এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস মোকাবিলা করে কিডনির জন্য প্রয়োজনীয় রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি করে। এর সঙ্গে এক টুকরো লেবু যোগ করলে প্রচুর ভিটামিন সি ও অতিরিক্ত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায়।

গ্রিন টি পলিফেনল অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর, যা কিডনি কোষের সুরক্ষার জন্য এক ধরনের আবরণের মতো কাজ করে। গবেষণা বলছে, নিয়মিত গ্রিন টি পান করলে কিডনিতে পাথর গঠনের ঝুঁকি কমে এবং কিডনির পরিস্রাবণ হার বৃদ্ধি পায়। এতে থাকা এপিগ্যালোকেটচিন-৩-গ্যালেট (EGCG) নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গ্লুকোজজনিত বিষক্রিয়া প্রতিরোধে সাহায্য করে, ফলে কিডনি ক্ষতি থেকে সুরক্ষা মেলে। এছাড়া এটি হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা বজায় রাখে এবং শরীরের তরল ভারসাম্য ঠিক রাখে। এতে থাকা সামান্য ক্যাফেইন কিডনির ওপর চাপ না দিয়েই শক্তি বাড়ায়।

ত্রিফলা একটি আয়ুর্বেদিক মিশ্রণ, যা আমলকি, হরিতকি ও বহেরা—এই তিনটি ফলের সংমিশ্রণে তৈরি। বহু শতাব্দী ধরে এটি কিডনি বিশুদ্ধকারী টনিক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা শরীরের খনিজ ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। আধুনিক গবেষণাও এই দাবিকে সমর্থন করে। ত্রিফলা ভিটামিন সি ও গ্যালিক অ্যাসিডের মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ, যা প্রদাহ ও কোষের চাপ কমিয়ে টিস্যুকে রক্ষা করে। কিডনি ছাড়াও ত্রিফলা বিপাক উন্নত করে, হজমে সহায়তা করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা জোরদার করে। এর মৃদু ডিটক্সিফাইং প্রভাব কিডনির পরিস্রাবণ কার্যক্রম বজায় রাখতে এবং অবাঞ্ছিত বিষাক্ত পদার্থের জমা কমাতে সহায়তা করে।

পড়ুন: গ্লুটেন কি আসলেই ক্ষতিকর?

আর/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন