বিজ্ঞাপন

কিয়ামতের দিন মানুষের পাশে দাঁড়াবে রোজা

কিয়ামতের দিন রোজা মানুষের মুক্তির জন্য আল্লাহর কাছে সুপারিশ করবে। পার্থিব জীবনে মানুষের কাছে রোজা প্রাণহীন বস্তু হলেও পরকালে জীবন্ত প্রাণ হয়ে বান্দার উপকারে জোরাল ভূমিকা রাখবে। মানুষ যখন কিয়ামতের বিভীষিকাময় পরিস্থিতিতে পড়বে, কেউ তার পাশে দাঁড়ানোর সাহস করবে না, সবার চিন্তা থাকবে কী করে আগে নিজেকে বাঁচানো যায়, ঠিক সেই কঠিন সময়ে রোজা মানুষের পাশে দাঁড়াবে।

বিজ্ঞাপন

রোজা মানুষের জন্য এমন এক দুর্যোগপূর্ণ দিনে সুপারিশ করবে, যেদিন আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কেউই এক চুল নড়তে পারবে না। কারও জন্য কেউ সুপারিশ করতে পারবে না। কোরআনে আছে, ‘কে আছে এমন—যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৫৫)

কিয়ামতের বিভীষকাময় সেই সময়ে রোজার সুপারিশ করার বিষয়ে হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘রোজা এবং কোরআন কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে মানুষের জন্য সুপারিশ করবে। রোজা বলবে, হে আল্লাহ, আমি তাকে পানাহার ও স্ত্রী সম্ভোগ থেকে বাধা দিয়েছি। অতএব আমার সুপারিশ কবুল করুন। কোরআন বলবে, হে আল্লাহ, আমি তাকে রাতে ঘুম থেকে বাধা দিয়েছি। অতএব আমার সুপারিশ করুন। এরপর তাদের সুপারিশ করা হবে।’ (বাইহাকি, হাদিস: ১৮৩৯)

রোজা হলো সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নিয়তসহকারে পানাহার, দাম্পত্য মিলন ও রোজাভঙ্গকারী সব কাজ থেকে বিরত থাকা। আল্লাহ বলেন, ‘তোমারদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন তোমাদের আগেরকার মানুষদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল। যেন তোমরা তাকওয়া (আল্লাহভীতি) অর্জন করতে পারো।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৮৩)

রোজার প্রতিদান আল্লাহ তাআলা নিজে দেন। বান্দার রোজাকে আল্লাহ নিজের বলেছেন। হাদিসে কুদসিতে আছে, মহানবী (সা.) বলেছেন, আল্লাহ বলেন, ‘রোজা আমারই জন্য। আমি এর প্রতিদান দেব। বান্দা আমার জন্য পানাহার ও কামনা-বাসনা ছেড়ে দেয়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭৪৯২)

মুমিন-মুসলমান মাত্রই জান্নাতে যেতে চান। এর চেয়ে বড় প্রত্যাশা মুমিন-মুসলমানের জীবনে আর নেই। রোজা রাখার মাধ্যমে জান্নাতে যাওয়া যায়। নবী (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় একদিন রোজা রাখার পর ব্যক্তির মৃত্যু হলে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ (মুসনাদে আহমাদ)

জান্নাতের একটি বিশেষ দরজার নাম রাইয়ান। এ দরজা দিয়ে শুধু রোজাদার ব্যক্তি প্রবেশ করতে পারবে। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘জান্নাতের একটি দরজার নাম রাইয়ান। কিয়ামতের দিন এ দরজা দিয়ে শুধু রোজাদার ব্যক্তি প্রবেশ করবে। অন্য কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। ‘কোথায় সেই সৌভাগ্যবান রোজাদার’ বলে ডাকা হবে। তারা উঠে দাঁড়াবে। তারা ছাড়া কেউ এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। তারা প্রবেশ করলে তা বন্ধ করে দেওয়া হবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৮৯৬)

পড়ুন: ৩ দেশের মার্কিন ঘাঁটি ধ্বংস করেছে ইরান

আর/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন