২৫/০২/২০২৬, ১৬:০৩ অপরাহ্ণ
32.5 C
Dhaka
২৫/০২/২০২৬, ১৬:০৩ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

কিশোরগঞ্জে মিঠামইনে বিনা অভিযোগে বিএনপি নেতার পদ স্থগিত

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার মহিষকান্দি বেড়িবাঁধের ওপর প্রায় ৩০ বছর আগে রোপণ করা ১২টি মেহগনি গাছ। এগুলো কেটে ফেলার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরকে দলীয় পদস্থগিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, ১৯৯৫-৯৬ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধানে ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সহায়তায় খোয়াব নামের একটি এনজিও সংস্থা নদীভাঙন রোধে মহিষকান্দি বেড়িবাঁধে ১২টি মেহগনি গাছ রোপণ করে।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দুর্বৃত্তরা বৈদ্যুতিক করাত দিয়ে গাছগুলো গুঁড়ি থেকে কেটে নেয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে উপজেলা প্রকৌশলী ফয়জুর রাজ্জাকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ইসলামপুর এলাকার সোহেল মিয়ার মায়ের দোয়া স’মিলের পাশ থেকে গাছগুলো উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় ২৪ ফেব্রুয়ারি মিঠামইন উপজেলা প্রকৌশলী ফয়জুর রাজ্জাক বাদী হয়ে মিঠামইন থানায় একটি গাছ চুরির মামলা দায়ের করেন। মামলায় সরকারহাটি গ্রামের হামিদ মিয়ার ছেলে মো. আঙ্গুর মিয়া (৬০) এর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২-৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।

তবে স্থানীয় ও উপজেলা প্রকৌশলী কেউই উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ না করলেও গণমাধ্যমে তার ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচলের সুবিধার্থে গাছ কাটার অভিযোগে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৪ ফেব্রুয়ারি বিকালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক আদেশে ব্যক্তিস্বার্থে ২০টি মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগে জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরকে মিঠামেইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি পদ স্থগিত করেছে ন।

স্থগিত ঘটনায় সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় গ্রামবাসী ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

২৪ ফেব্রুয়ারি বিকালে সরেজমিনে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০২০ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের উদ্যোগে হাওরাঞ্চলে ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ অল-ওয়েদার সড়ক নির্মাণের পর পুরোনো বেড়িবাঁধটি কামালপুর ও মহিষকান্দি গ্রামের মানুষের চলাচলের গ্রামীণ রাস্তা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

মহিষকান্দি গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা দীপক সরকার জানান, অল-ওয়েদার সড়ক নির্মাণের আগে বেড়িবাঁধটি ছিল ভিটেমাটি রক্ষার একমাত্র অবলম্বন। তবে সড়ক নির্মাণের পর গত ৫-৬ বছর ধরে এটি গ্রামীণ সড়ক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও কৃষিপণ্যবাহী যানবাহন নিয়মিত চলাচল করে। বেড়িবাঁধের শেষপ্রান্তে একটি শ্মশান থাকায় মরদেহ ও লাকড়ি নেওয়াতেও গাছগুলো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছিল বলে তিনি জানান।

বেরিবাঁধের ওপর চলাচলকারী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক ছাত্তার মিয়া বলেন, অল-ওয়েদার সড়ক নির্মাণের আগে নদীভাঙন প্রতিরোধে এই বেড়িবাঁধটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তবে বর্তমানে গ্রামবাসী এটিকে নিয়মিত সড়ক হিসেবেই ব্যবহার করছেন। বেড়িবাঁধের প্রবেশমুখে থাকা ১২টি মেহগনি গাছের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটত। বিষয়টি প্রশাসন ও বিগত সময়ে আওয়ামী লীগসহ বর্তমানে বিএনপির নেতাকর্মীদের একাধিকবার জানানো হলেও কোনো সমাধান হয়নি। দুই দিন আগে রাতে দুটি অটোরিকশার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে শুনেছেন আঙ্গুর মিয়া নামের একজন ব্যক্তি গাছগুলো কেটে ফেলেছেন। এতে পথচারী ও চালকদের জন্য চলাচল অনেকটা নিরাপদ হয়েছে। এখন রাতেও অটো চালাতে দুর্ঘটনার ভয় নেই।

সদ্য বহিষ্কৃত মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর বলেন, বেড়িবাঁধের গাছ কাটার বিষয়ে তাঁর বিরুদ্ধে সাংবাদিকরা সংবাদ প্রকাশ করেছেন। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, তারা কিভাবে সাংবাদিকতার মতো একটি মহান পেশায় এসেছেন তা তাঁর বোধগম্য নয়। তাঁর ভাষায়, একজন সাংবাদিক সমাজের আয়না। কিন্তু তাদের আয়না ধুলোভরা ও ঝাপসা।

তিনি অভিযোগ করেন, সেই সাংবাদকদের ব্যাকগ্রাউন্ড খুঁজলে দেখা যাবে তারা ফ্যাসিস্ট হাসিনার রেখে যাওয়া দোসর। তারা সংবাদ প্রচার করছেন যে, তাঁর বাড়িতে ব্যক্তিগত গাড়ি প্রবেশের পথ সুগম করতে তিনি গাছ কেটেছেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, এর কোনো প্রমাণ কেউ দিতে পারবে কি না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, তাঁর একটি মোটরসাইকেলের জন্য গাছ কাটার প্রয়োজন হয় কি না।

জাহাঙ্গীর বলেন, প্রশাসন গাছ চুরির অভিযোগে আঙ্গুর মিয়ার নামে মামলা করেছে। অথচ তথাকথিত কিছু সাংবাদিক তাঁকেই অভিযুক্ত করে সংবাদ প্রকাশ করছেন। তিনি দাবি করেন, অল-ওয়েদার সড়ক নির্মাণের পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে কামালপুর ও মহিষকান্দি এলাকার পথচারী ও অটোরিকশা চালকরা স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে বারবার ওই গাছগুলো কাটার সুপারিশ করেছিলেন। কিন্তু প্রশাসন তখন কোনো কর্ণপাত করেনি।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান ইউএনও আসার পূর্বে স্থানীয় গ্রামবাসী ও অটোরিকশা চালকরা তাঁকে সঙ্গে নিয়ে ইউএনওর কাছে বেড়িবাঁধের ওপর থেকে ১২টি গাছ কেটে দেওয়ার জন্য যান। তখন ইউএনও বন বিভাগ ও উপজেলা প্রকৌশলীকে গাছ কাটার নির্দেশ দেওয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু হঠাৎ কে বা কারা গাছ চুরি করেছে সেই ঘটনার দায় তাঁর ওপর চাপানো হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

মিঠামইন উপজেলার দায়িত্বে থাকা বন বিভাগের কর্মকর্তা জুলফিকার জয় বলেন, বেড়িবাধে কেটে ফেলা গাছ গুলো স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সহায়তায় খোয়াব নামে একটি এনজিও সংস্থা রোপণ করেছিল। বিষয়টি উপকারভোগী স্থানীয় দুঃস্থ নারী ও এলজিইডি দেখাশোনা করছে। এটা আমাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না।

গাছ চুরির মামলার বাদি উপজেলা প্রকৌশলী ফয়জুর রাজ্জাক বলেন, ঘটনার দিন ওই এলাকা থেকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানতে পারেন কে বা কারা বেড়িবাঁধের ওপরের মেহগনি গাছগুলো কেটে নিয়ে গেছে। পরবর্তীতে তিনি ইউএনওসহ ঘটনাস্থালে গিয়ে গাছের ডালপালা পেলেও গাছগুলো না পেয়ে খোঁজাখুজি করে স্থানীয় একটি স’মিল থেকে জানতে পারেন গাছগুলো আঙ্গুর মিয়া নামে একজন এখানে এনেছে। পরবর্তীতে তিনি আঙ্গুর মিয়াকে আসামি করে মিঠামইন থানায় মামলা করেন। তবে ওই ঘটনার সাথে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর সাহেবের কোনো রকম সম্পৃক্ততা নেই বলে তিনি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লিয়াকত আলী বলেন, ঘটনার সাথে উপজেলা বিএনপির সম্পৃক্ততা আছে কিনা তা আমি বলতে পারবো না। কারণ মামলাতো আর পুলিশ করেনি। উপজেলা প্রকৌশলী বাদী হয়ে একজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। অজ্ঞাত ২-৩জনের নাম দেওয়া আছে। যাদের নাম আসবে তাদেরকে আসামি করা হবে।

এ বিষয়ে মিঠামইন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস.এম আব্দুল্লাহ-বিন-শফিক বলেন, আমরা অভিযোগের প্রেক্ষিতে স’মিলে চলে যায়। সেখানে আঙ্গুর নামে একজনের নাম আসে। আর গাছ তো একা কাটা সম্ভব নয়। আমরা স’মিলের সূত্রধরেই আঙ্গুরকে আসামি করে মামলা দিয়েছি। আরও অজ্ঞাত আছে। স্থানীয়রা গাছ কারা বিষয়ে কারও নামে কোনো অভিযোগ করেনি এবং পূর্বেও কোনোদিন গাছ কাটার বিষয়ে আমার কাছে আসেনি।

পড়ুন- পিলখানা হত্যাকাণ্ডে শহিদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

দেখুন- বরিশালে বিচার চলাকালীন এজলাসে আইনজীবীদের হট্টগোল

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন