১৩/০১/২০২৬, ১৭:৫৪ অপরাহ্ণ
26 C
Dhaka
১৩/০১/২০২৬, ১৭:৫৪ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

কিশোরগঞ্জে সংযোগ সড়ক বন্ধ করে দেওয়ায় চরম দুর্ভোগে পাঁচ শতাধিক মানুষ

কিশোরগঞ্জ পৌরসভার গাইটাল এলাকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক বন্ধ করে দেওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন লতিবাবাদ নামাপাড়ার অন্তত পাঁচ শতাধিক বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত এই পথটি বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে স্কুলগামী শিক্ষার্থী, দিনমজুর, নারী ও প্রবীণরা।

বিজ্ঞাপন


ঘটনাটি ঘটেছে কিশোরগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের গাইটাল পাক্কার মাথা এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লতিবাবাদ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা প্রায় দেড়শ বছর ধরে এই উঁচু মাটির রাস্তাটি চলাচলের জন্য ব্যবহার করে আসছিলেন। সম্প্রতি গোলাম রসূল সাজু নামের এক ব্যক্তি তার লোকজন নিয়ে রাস্তাটির মাঝখানে পিলার বসিয়ে কার্যত পথটি বন্ধ করে দেন।
এই ঘটনায় গ্রামবাসী।

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এর কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, গোলাম রসূল সাজু রাস্তাটি নিজের পৈত্রিক সম্পত্তি দাবি করে এলাকাবাসীর চলাচলের একমাত্র সংযোগ পথটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেন। এতে প্রায় তিনশ পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়েছে।


এলাকাবাসীর অভিযোগ, গত কয়েক যাবৎ পথটি বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাতায়াত, রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া এবং সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।


স্থানীয় বাসিন্দা মো. আবুল কালাম বলেন, এই রাস্তা দিয়েই আমরা নিয়মিত বাজারে যেতাম এবং আমাদের বাচ্চারা স্কুলে যেত। হঠাৎ করে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় এখন আমরা কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় আছি। রাস্তা বন্ধের দিন পাশের এক বাড়ির এক নারী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাস্তায় পিলার বসানো থাকায় কোনো রিকশা বা যানবাহন ঢুকতে পারেনি, ফলে তাকে সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি। চিকিৎসার অভাবে ওই নারী মারা যান। দুঃখজনকভাবে জানাজার জন্য তার লাশটিও বাড়ি থেকে বের করা যায়নি।


আরেক বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, আমরা একাধিকবার অভিযুক্তদের সঙ্গে কথা বলেছি। কিন্তু তারা কোনো কথা শুনছে না। উল্টো জোরপূর্বক রাস্তার দখল বজায় রেখেছে।


এ বিষয়ে লতিবাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আ. রাজ্জাক বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। সাধারণ মানুষের চলাচলের রাস্তা কেউ ব্যক্তিস্বার্থে বন্ধ করতে পারে না। আমরা আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করছি।

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম ভূঞা বলেন, আমি একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। জনস্বার্থের রাস্তায় কেউ বাধা দিলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইউএনও বা এসিল্যান্ড অবগত করলে পুলিশ সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ কামরুল হাসান মারুফ বলেন, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এসিল্যান্ড ও চেয়ারম্যানকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। রাস্তাটি সরকারি হোক বা ব্যক্তিগত জনসাধারণের চলাচল বন্ধ করা যাবে না। রিপোর্ট পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আশা করছি দ্রুত সমাধান হবে।

পড়ুন- রাঙামাটিতে এলপিজি গ্যাস সংকট

দেখুন- চট্টগ্রামের সরকারি হাসপাতালগুলোতে নেই জলাতঙ্ক প্রতিরোধক টিকা

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন