১৫/০১/২০২৬, ৬:২১ পূর্বাহ্ণ
17 C
Dhaka
১৫/০১/২০২৬, ৬:২১ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা হাসপাতালে আউটসোর্সিং নিয়োগে ‘দুর্নীতির মহোৎসব

কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতা থেকে শুরু করে আয়া, ওয়ার্ড বয়সহ প্রায় সব আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগেই চলছে ব্যাপক অনিয়ম, ভোগান্তি ও বাণিজ্যিক সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য।

বিজ্ঞাপন

কাগজে-কলমে ৯৩ জন আউটসোর্সিং কর্মী দেখানো হলেও বাস্তবে প্রতিদিন কাজে দেখা যায় মাত্র ৩০–৪০ জন। বাকি নামগুলো কাগজে ধরে রেখে মাসের পর মাস বেতন তোলা হচ্ছে অভিযোগ উঠেছে হাসপাতাল ভারপ্রাপ্ত পরিচালক শামছুল আলম এবং তার ঘনিষ্ঠ মোঃ শরীফুল আলম প্রধান সহকারী কাম হিসাব রক্ষককে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা শক্তিশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে।

হাসপাতাল সূত্র ও কর্মীদের অভিযোগ, নিয়োগপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের লোকজন মাঠে থাকেন না। বরং দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের পরিচিত একটি গ্রুপই নাম ব্যবহার করে বেতন তুলছে। ৯৩ জনের মধ্যে প্রায় ৪০ জনের বেতন মাসে মাসে তোলেন প্রধান সহকারী শরীফুল আলম,পরে সেই অর্থ ভারপ্রাপ্ত পরিচালক শামছুল আলমের সঙ্গে ভাগাভাগি করা হয়, সিন্ডিকেট পরিচালনা করেন রফিকুল হক টিটু নামে এক ব্যক্তি, যিনি আউটসোর্সিং নিয়োগের সঙ্গে যুক্ত।

হাসপাতালের একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কাগজে কলমে ১০০ জন কর্মীর নাম, কিন্তু কাজ করি ৩০–৪০ জন। বাকিরা শুধু মাস শেষে টাকা তুলে নেয়। আমরা কাজ করে শারীরিকভাবে ভেঙে পড়ি কিন্তু কেউ কিছু বলে না।”

কর্মী সংকটের কারণে হাসপাতালের বাথরুম, ওয়ার্ড, করিডর সব জায়গার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অবস্থা নাজুক। অনেক বাথরুমই অচল। রোগী ও স্বজনরা অভিযোগ করেন, “এটা হাসপাতাল নাকি নোংরা আবাসিক ভবন বোঝা কঠিন।

শুধু পরিচ্ছন্নতা খাতে নয় হাসপাতাল পরিচালকের বিরুদ্ধে ব্যাপক সার্টিফিকেট বাণিজ্যের অভিযোগও পাওয়া গেছে। শরীফুল আলম নামের প্রধান সহকারীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে ‘শরিফ সিন্ডিকেট, ভর্তি রোগীর ঝামেলা, ছাড়পত্র, বিভিন্ন মেডিকেল সনদ সবকিছুতেই টাকা ছাড়া সমাধান হয় না,

জাল সনদ দেওয়ার অভিযোগে সম্প্রতি এক ব্যক্তি ২৬ দিন জেলও খেটেছেন; পরে মুক্ত হয়ে তিনিই আবার মামলা করেছেন হাসপাতালের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় কয়েকজন জানান, সনদ বাণিজ্যে কোটি টাকার জালিয়াতি হয়েছে। সাধারণ মানুষ পরিচালক ও শরীফুল সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি।

হাসপাতালের ভেতর কর্মরত কিছু আউটসোর্সিং কর্মীকে দেখা যায় ভিন্ন কাজে ব্যস্ত। এদের কেউ কেউ নাকি রোগীদের প্রাইভেট হাসপাতালে পাঠিয়ে কমিশন আদায় করেন বলে দাবি করেন কয়েকজন। হাসপাতালের এক কর্মকর্তা বলেন, সরকারি হাসপাতালের কাজে নয় অনেকে প্রাইভেট হাসপাতালে রোগী পাঠাতেই বেশি ব্যস্ত থাকে।

দূর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. নূর মো.শামছুল আলমের সঙ্গে কথা বললে তিনি প্রতিবেদককে বলেন “সাংবাদিকেরা আমাকে এসে স্যার বলে জানেন। কেউ টাকা নেয় কি না এটা আমি আপনাকে বলতে বাধ্য না। শরিফ আসুক, তার সাথে কথা বলেন। অনিয়ম হলে প্রশাসন দেখবে। আপনি কে? আমাকে আপনি যা পারেন গিয়ে করেন আমার বাড়ি ভৈরব।

পরিচালকের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, সনদ বাণিজ্য ও আউটসোর্সিং সিন্ডিকেট নিয়ে একাধিকবার পত্র-পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলেও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি প্রশাসন। স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বশীল কেউ ঘটনাগুলো তদন্ত করতেও আগ্রহ দেখাননি।

সরকারি হাসপাতালের বাজেট কোথায় যায়?
কাগজে দেখানো ৯৩ কর্মীর বেতনের টাকা কার পকেটে?
সার্টিফিকেট বাণিজ্যের টাকা কীভাবে ভাগ হয়? এইসবের কোনো উত্তর নেই বলে সুজা জানিয়ে দেন

কিশোরগঞ্জ সিভিল সার্জন ডাঃ অভিজিত শর্ম্মা বলেন, যদি কোন অনিয়ম দুর্নীতি হয়ে থাকে অবশ্যই তা আমরা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিব। সাংবাদিকদের তথ্য দিতে উনি বাধ্য কোনভাবেই সাংবাদিকদের সাথে অশোভন আচ্চারণ করতে পারেন না, অনিয়ম যেই করুক শাস্তি থাকে পেতে হবে।

স্থানীয়দের দাবি এ হাসপাতাল একজন দুর্নীতিবাজ পরিচালকের হাতে জিম্মি। তার বিরুদ্ধে জরুরি তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

পড়ুন- চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহানন্দা ব্যাটালিয়নের ১০ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন

দেখুন- হাসিনার মামলা থেকে সরে যাওয়ার কারণ জানালেন পান্না | 

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন