বিজ্ঞাপন

কিশোরী ধর্ষণের দায়ে গাংনীর স্বপনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামের স্বপন আলীকে (৩৪) কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ২ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে তাকে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (৩০ জুন) দুপুরে মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ মোঃ তহিদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।

সাজাপ্রাপ্ত স্বপন মোহাম্মদপুর গ্রামের এনামুল হকের ছেলে। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ভারপ্রাপ্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে ছিলেন ইসরাত জাহান তমা। আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আতাউল হক আনটু।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর গাংনী উপজেলার স্বপনের সঙ্গে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার রাজনগর গ্রামের রাহাতুল ফকিরের ১৫ বছর বয়সী কিশোরীর মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

এরপর ২১ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে স্বপন মোবাইল ফোনে মেয়েটিকে ডেকে নেয়। সারাদিন বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরার পর রাত আনুমানিক ১১টা ৩০ মিনিটে গাংনীর আকবপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের নির্মাণাধীন একটি দ্বিতল ভবনের ছাদে নিয়ে যায়। সেখানে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মেয়েটির ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করে এবং রাতেই তাকে ফেলে পালিয়ে যায়।
ভিকটিম পরদিন সকালে বাড়ি ফিরে ঘটনাটি তার পরিবার ও স্থানীয়দের জানায়। পরে তার বাবা রাহাতুল ইসলাম ফকির বাদী হয়ে গাংনী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ৯(১) ধারায় স্বপন আলী ও সাহারুল নামে আরও একজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তভার পায় কুমারিডাঙ্গা পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই মিন্টু মিয়া। তদন্ত শেষে তিনি কেবল স্বপনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলায় মোট ৮ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত স্বপনের বিরুদ্ধে আনা ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করেন। আদালত তার রায়ে উল্লেখ করেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০-এর ১৫ ধারামতে আসামির আরোপিত ২ লক্ষ টাকার অর্থদণ্ড ভিকটিমকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করা হবে। যদি আসামির বর্তমান কোনো সম্পদ না থাকে, তবে ভবিষ্যতে অর্জিত সম্পদ থেকেও এই অর্থ আদায়যোগ্য হবে। এবং এ ক্ষেত্রে অন্য কোনো দাবির চেয়ে ভিকটিমের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার অগ্রাধিকার পাবে।

উল্লেখ্য, ঘটনা ঘটেছিল ২০১৬ সালে। দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার পর প্রায় ৯ বছর পর আদালত এ রায় ঘোষণা করল। ভিকটিমের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচারের জন্য অপেক্ষা করছিল।

পড়ুন: লক্ষ্মীপুরে খুন ও মাদকের প্রধান আসামি গ্রেফতার

দেখুন: মাদ্রাসা ছাত্রীর র’হ’স্য’জ’ন’ক ঘটনার সঠিক কারন জানতে চায় পরিবার |

ইম/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন