নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় হঠাৎ করেই বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। রাস্তাঘাটে বিনা উসকানিতে পথচারীদের ওপর আক্রমণ করছে এসব কুকুর। এতে পুরো উপজেলাজুড়ে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে শিশু ও কিশোর-কিশোরীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে হাসপাতালে ছুটছেন সাধারণ মানুষ, তবে সেখানেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সরকারি ভ্যাকসিন।
সোমবার (২৩ মার্চ) কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, গতকাল (রবিবার) সকাল থেকে দিনভর অন্তত ৭ জন কুকুরের কামড়ে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
তবে স্থানীয় বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক সূত্র বলছে, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি। পুরো উপজেলায় অন্তত ২০ জন কুকুরের হামলার শিকার হয়েছেন। এদের অনেকেই স্থানীয় ফার্মেসি বা পল্লি চিকিৎসকদের কাছে প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ায় তাদের তথ্য হাসপাতালের খাতায় আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত হয়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আক্রান্তদের মধ্যে বেশিরভাগই শিশু এবং ১৫ বছরের কম বয়সী কিশোর-কিশোরী। ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা জানান, এলাকার অধিকাংশ কুকুরই পূর্ণবয়স্ক এবং অত্যন্ত আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে। রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় বিনা উসকানিতেই কুকুরগুলো পথচারীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন। শিশুদের স্কুলে পাঠানো নিয়েও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অভিভাবকরা।
কুকুরের কামড়ে আহতদের জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো জলাতঙ্ক প্রতিরোধক ভ্যাকসিন বা অ্যান্টি-র্যাবিস ভ্যাকসিন। কিন্তু কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এই ভ্যাকসিনের কোনো সরবরাহ নেই। ফলে আহত রোগীদের বাধ্য হয়ে বাইরের ফার্মেসি থেকে উচ্চমূল্যে এই ভ্যাকসিন কিনতে হচ্ছে। এতে নিম্নবিত্ত ও সাধারণ মানুষ চরম আর্থিক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাইম হাসান হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “সরকারিভাবে কুকুরের ভ্যাকসিন শুধুমাত্র বিশেষায়িত হাসপাতাল ও জেলা সদরেই সরবরাহ করা হয়। উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এই ভ্যাকসিন সরবরাহের কোনো ব্যবস্থা নেই।”
কুকুরের এমন উপদ্রবে আহত হয়েছেন সাংবাদিক কাউসার তালুকদারসহ স্থানীয় বেশ কয়েকজন বাসিন্দা। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অবিলম্বে কুকুরগুলোর উপদ্রব বন্ধে প্রশাসনের কাছে কার্যকর ও দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং পৌর প্রশাসক মো. রিফাতুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “কুকুরের উপদ্রবের বিষয়টি নিয়ে আমরা ইতিমধ্যে আলোচনা করেছি। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” পাশাপাশি পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তিনি সবাইকে রাস্তাঘাটে সতর্কতার সঙ্গে চলাফেরা করার পরামর্শ দিয়েছেন।
সচেতন মহলের মতে, বর্তমান এমন ভীতিকর পরিস্থিতিতে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগই পারে কুকুর আতঙ্ক দূর করে জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে।


