১৯/০২/২০২৬, ২০:১৪ অপরাহ্ণ
29 C
Dhaka
১৯/০২/২০২৬, ২০:১৪ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

‎কুড়িগ্রামে সংরক্ষিত নারী সাংসদের প্রার্থীতা নিয়ে চলছে নানান সমীকরণ

জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ৩৫ জন নারী সংসদ সদস্য মনোনীত করার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার খবরে কুড়িগ্রামের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা-উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। দলীয় সূত্র বলছে, সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে যাচাই-বাছাই চলছে। আর সেই সঙ্গে কুড়িগ্রামেও নারী নেত্রীদের দৌড়ঝাঁপে পিছিয়ে নেই।

বিজ্ঞাপন


‎সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে কুড়িগ্রামের চারটি সংসদীয় আসনের একটিতেও বিএনপি জয় পায়নি। স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি—ভোটারের সাড়া কম ছিল না; বরং ১১ দলীয় জোটের কৌশলগত সমন্বয়ের কারণে পরাজয় এসেছে।


‎উন্নয়নের প্রশ্নে নারী প্রতিনিধিত্বের দাবি রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কুড়িগ্রাম থেকে বিএনপির একজন নারী সংসদ সদস্য মনোনীত হলে জেলার উন্নয়ন-সংকট জাতীয় পর্যায়ে জোরালোভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে। দলীয় সাংগঠনিক কাঠামোও পুনর্গঠিত ও সুসংগঠিত করা সহজ হবে।


‎কুড়িগ্রাম দীর্ঘদিন ধরেই দারিদ্র্য, নদীভাঙন ও চরাঞ্চলের পশ্চাৎপদতার শিকার। ব্রহ্মপুত্র ও ধরলা অববাহিকার ভাঙনে প্রতি বছর বহু পরিবার বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। চরাঞ্চলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনো নাজুক। কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত হওয়ায় বেকারত্ব আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। উন্নয়ন সূচকে জেলা দেশের নিম্নসারিতেই ঘোরাফেরা করছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
‎সামাজিক সংগঠনগুলোর মতে, দারিদ্র্য বিমোচন, নারী শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হলে সংসদে শক্তিশালী কণ্ঠ প্রয়োজন। সে প্রেক্ষাপটে সংরক্ষিত নারী আসনে কুড়িগ্রামকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি উঠেছে।
‎যাদের নাম আলোচনায়
‎দলীয় ও রাজনৈতিক মহলে যেসব নারী নেত্রীর নাম শোনা যাচ্ছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন-
‎কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মমতাজ হোসেন লিপি,
‎জেলা মহিলা দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. নাজমুন নাহার বিউটি,বিশিষ্ট কার্ডিওলজিস্ট ডাঃ রেয়ান আনিস,জেলা মহিলা দলের আহ্বায়ক ‎রেশমা সুলতানা,জেলা মহিলা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক শামীমা রহমান আপন।


‎তাদের প্রত্যেকেই দীর্ঘদিন ধরে দলীয় রাজনীতি ও নারী সংগঠনে সক্রিয়। তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও সামাজিক সম্পৃক্ততা বিবেচনায় কার ঝুলিতে মনোনয়ন যাবে—তা নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।

‎দলীয় সূত্র বলছে, সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নে সাংগঠনিক দক্ষতা, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, গ্রহণযোগ্যতা ও এলাকার উন্নয়নে কাজের সম্ভাবনা—এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। কুড়িগ্রামবাসীর প্রত্যাশা, এবার অন্তত সংরক্ষিত নারী আসনের মাধ্যমে জেলার জন্য একটি কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে।


‎রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষায়, “সংসদে কুড়িগ্রামের একজন নারী প্রতিনিধি মানে শুধু প্রতীকী পদ নয়—বরং নদীভাঙন, দারিদ্র্য ও বেকারত্বের মতো দীর্ঘদিনের সংকট জাতীয় অগ্রাধিকারে তোলার একটি সুযোগ।”
‎এখন চোখ কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে। কুড়িগ্রাম কি পাবে সেই কাঙ্ক্ষিত নারী সংসদ সদস্য—সেটিই দেখার অপেক্ষা।

পড়ুন- রমজানেই চালু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন