কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় বালু ঘাট নিয়ে দ্বন্দ্বে দুর্বৃত্তদের ছোড়া গুলিতে ফরিদ হোসেন(২৮) নামে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুইজন। এদিকে শনিবার সকালে হাসপাতালে সংবাদ সংগ্রহে গেলে মামুন ও সুজন নামে দুই ব্যক্তি সাংবাদিকদের বাঁধা প্রদান করে।
শুক্রবার(১৮ অক্টোবর) দিবাগত রাত তিনটার দিকে উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের লাহিনী এলাকার গড়াই নদে এঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ ফরিদ হোসন একই ইউনিয়নের লাহিনীপাড়া এলাকার হুজুর আলীর ছেলে। তিনি বালু ঘাট দেখাশুনার কাজে কর্মরত। এ ঘটনায় আহতরা হলেন, একই এলাকার ইদ্রিসের ছেলে সবুজ(৩৮) ও মৃত আশরাফুল ইসলামের ছেলে হাসিবুল হাসান শান্ত(২৮)।
আহতদের কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ আহতদের বরাত দিয়ে বলছে, লাহিনী এলাকার চিহিৃত কয়েকজনের নাম জানতে পেরেছি। তারাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে। আহত সবুজ বলেন,‘রাতে লাহিনী এলাকার গড়াই নদে বালু উত্তোলনের কাজ চলছিল। চারজন ঘুমাচ্ছিলেন আর আমরা তিনজনসহ শ্রমিকরা কাজ করছিলাম। শেষ রাতের দিকে পশ্চিমপাশের বাগানের ভেতর থেকে ১০–১২ জন আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা আমাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকে। এ সময় ফরিদ নামে একজন গুলিবিদ্ধ হয়।’
তিনি বলেন,‘আগ্নেয়াস্ত্রের বাটের আঘাতে আমিসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এছাড়া দুর্বৃত্তরা বালু ঘাটের ক্যাশকাউন্টার থেকে নগদ টাকা ও কয়েকজনের মোবাইল নিয়ে গেছে। হামলাকারীদের চিনতে পেরেছেন কিনা—জানতে চাইলে আহত সবুজ বলেন,দুইজনকে চিনতে পেরেছি। প্রশাসনের কাছে তাদের নাম জানিয়েছি। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হাসিবুল হাসান শান্ত বলেন,গুলির শব্দ শুনে আমি জান বাঁচানোর জন্য দৌড়ে পালাতে গেলে আমাকেও আঘাত করে। গত পড়শু একই বালু ঘাট নিয়ে হামলায় আহত শামীম বলেন,ছেঁউরিয়া এলাকার সাজেদুর ভাই বালু ঘাটের ইজারা পেয়েছেন। লাহিনী এলাকার মজিদ নামে এক ব্যক্তি বালু ঘাটের শেয়ার দাবি করে। এই নিয়ে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে আমাকেও মারধর করে।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা(আরএমও) হোসেন ইমাম বলেন, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ভোররাতে একজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ওই ব্যক্তি শঙ্কামুক্ত। এ বিষয়ে জানতে সাজেদুর রহমানের মুঠোফোনে কল দিলে তিনি রিসিভ করেননি।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) খন্দকার জিয়াউর রহমান বলেন,জানতে পেরেছি লাহিনী পাড়ার কয়েকজন বালি ঘাটে গুলির ঘটনা ঘটিয়েছে। বৈধ বালি ঘাট কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, শুনেছি ইজারা পেয়েছে। তবে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম ব্যস্ততা দেখিয়ে কল কেটে দেন।
পড়ুন: কোনাবাড়ীতে বকেয়া বেতনের দাবিতে আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ
দেখুন: খাবার নেই, নেই টাকা পাক সেনাবাহিনীর
ইম/


