কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার আব্দুল্লাহপুরে কিশোর গ্যাংয়ের ছুরিকাঘাতে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অবশেষে মৃত্যু হলো প্রবাসী আবু বকর (২৫)-এর।
শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে তিনি ঢাকা বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (পিজি) হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
আবু বকর চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ঘোলপাশা ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর কেন্ডা গ্রামের ফরিদ মিয়ার সন্তান। সম্প্রতি সদর দক্ষিণের আব্দুল্লাহপুর গ্রামের দেলোয়ারের মেয়ের জামাই হয়েছিলেন তিনি।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মাত্র কয়েকদিন আগেই গত ২৭ অক্টোবর সুমাইয়া আক্তার সুইটির সঙ্গে আবু বকরের বিয়ে হয়। বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে এসে শনিবার সন্ধ্যায় তিনি অলিরবাজার থেকে ফেরার পথে ঘটে যাওয়া ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন।
সেদিন আব্দুল্লাহপুর গ্রামের ফজলে রাব্বি ও পারভেজের সঙ্গে সামান্য ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে শ্যালক শান্তর সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা শান্তকে মারধর শুরু করলে তাকে বাঁচাতে এগিয়ে যান আবু বকর। সেই মুহূর্তেই ফজলে রাব্বি ও পারভেজ আবু বকরের বুকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।
রক্তাক্ত অবস্থায় প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা পিজি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। প্রায় এক সপ্তাহ লড়াই করার পর শুক্রবার সকালে মৃত্যু হয় এই নববিবাহিত প্রবাসীর।
ঘটনার পর নিহতের স্ত্রী আব্দুল্লাহপুর গ্রামের কিশোর গ্যাং সদস্য রাব্বি ও পারভেজকে আসামি করে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সেলিম জানান, “ঘটনাস্থলে দু’জন কিশোরের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হওয়া গেছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
পড়ুন : কুমিল্লায় সারারাত ডিউটি করে সকালে পুলিশ সদস্যের মৃত্যু


