কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত এমপি প্রার্থী ইউসুফ হাকিম সোহেলের বিরুদ্ধে স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে কোম্পানির জমি আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কুমিল্লা নগরীর বাগিচাঁগা এলাকার বাসিন্দা ও বন্ধন ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালকের স্ত্রী কানিজ ফাতিমা।
মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা নগরীর একটি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কানিজ ফাতিমা বলেন, তিনি একজন জুলাই যোদ্ধা সন্তানের মা হয়েও ধর্মের লেবাসধারী একজন রাজনৈতিক নেতার প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “যিনি আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেন, তিনি এমপি হলে সাধারণ জনগণের সঙ্গে কী করবেন?”
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, বন্ধন ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড ২০০৫ সালে যাত্রা শুরু করে। ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক কারণে কোম্পানির চেয়ারম্যান ডা. মিজানুর রহমান সবুজ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল ইসলাম আত্মগোপনে চলে যান। সে সময় ২০১৬ সালে কোম্পানির সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা ও জমি ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষমতা নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ ফরহাদ হোসাইন ও পরিচালক ড. মহসিন রেজার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তিনি বলেন, কোম্পানির পাঁচ শতাধিক শেয়ারহোল্ডার রয়েছেন এবং সবার স্বার্থ রক্ষার নীতিতে তারা পরিচালনা করছিলেন। কিন্তু ২০২২ সালে জামায়াত নেতা ইউসুফ হাকিম সোহেল চেয়ারম্যান ডা. মিজানুর রহমান সবুজ ও এমডি নজরুল ইসলামের স্বাক্ষর জাল করে নিজেকে চেয়ারম্যান এবং তার ছোট ভাই মোহাম্মদ মুসা শাকিলকে এমডি দেখিয়ে ভুয়া মালিকানা প্রতিষ্ঠা করেন। একই সঙ্গে নির্বাহী পরিচালক ফরহাদ হোসাইন ও পরিচালক ড. মহসিন রেজার স্বাক্ষর নকল করে দাউদকান্দির ইলিয়টগঞ্জে অবস্থিত কোম্পানির ১৫৬ শতক জমি নিজের বাবা আব্দুল হাকিমের নামে লিখে নেন।
কানিজ ফাতিমা জানান, ২০২২ সালে শেয়ারহোল্ডারদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জমিটি বিক্রির উদ্যোগ নিলে স্থানীয়রা জানান, জমিটি ইউসুফ হাকিম সোহেলের বাবার নামে লেখা এবং তা বিক্রি করা যাবে না। পরে রেজিস্ট্রি অফিসসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে খোঁজ নিয়ে বিষয়টির সত্যতা পাওয়া যায়। এরপর জমির খারিজ বাতিলের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে আদালতের শরণাপন্ন হন তারা।
তিনি আরও জানান, কোম্পানির এমডি নজরুল ইসলাম হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন এবং ভুয়া দলিলের বিরুদ্ধে কুমিল্লার আদালতে মামলা করেন নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ ফরহাদ হোসাইন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেয়। তদন্তকালে পিবিআই যৌথ স্ট্রাইকে ইউসুফ হাকিম সোহেলের দেওয়া চেয়ারম্যান ও এমডির স্বাক্ষরসংবলিত জাল কাগজপত্র জব্দ করে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “একজন ইসলামী দলের নেতা যদি এভাবে প্রতারণা করেন, তবে এমপি হয়ে তিনি জনগণের সম্পদ কীভাবে নিরাপদ রাখবেন?” তিনি দাবি করেন, বিষয়টি সমাধানে একাধিকবার আলোচনার চেষ্টা করা হলেও কোনো সুরাহা হয়নি।
ভুক্তভোগীদের দাবি, ৫০০ শেয়ারহোল্ডারের জমি উদ্ধার না হলে বহু পরিবার চরম ক্ষতির মুখে পড়বে। তারা অবিলম্বে জমি ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
পড়ুন : তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে সামনে রেখে কুমিল্লায় বিএনপির বর্ণাঢ্য বিজয় র্যালি


