কুমিল্লার মুরাদনগরের একটি গ্রামে বসতঘরের দরজা ভেঙে ধর্ষণের শিকার নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ধর্ষণের শিকার নারীর নির্যাতনের ভিডিও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার (২৯ জুন) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মনসুরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
এই ঘটনায় গত শুক্রবার দুপুরে মুরাদনগর থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী ওই নারী। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে মূল অভিযুক্ত ফজর আলীকে আজ ভোর পাঁচটার দিকে ঢাকার সায়েদাবাদ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্য চারজনকে ধর্ষণের ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মো. সুমন, রমজান আলী, মো. আরিফ ও মো. অনিক। গ্রেপ্তার সবার বাড়ি মুরাদনগর উপজেলায়।
মামলার বিবরনে জানা যায়, প্রায় ১৫ দিন আগে স্বামীর বাড়ি থেকে সন্তানদের নিয়ে বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে ফজর আলী (৩৮) নামের এক ব্যক্তি তাঁর বাবার বাড়িতে গিয়ে ঘরের দরজা খুলতে বলেন। তিনি এতে রাজি না হওয়ায় একপর্যায়ে ফজর আলী জোর করে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে তাঁকে ধর্ষণ করেন।
প্রতিবেশীরা জানায় ঘটনার দিন রাতে ওই বাড়ি থেকে অনেক শব্দ শোনা যাচ্ছিল। তখন গিয়ে দেখতে পাই দরজা ভাঙা এবং ওই নারী অসুস্থ অবস্থায় পড়ে আছেন। এ সময় কিছু লোক তাঁকে মারধর করে এবং মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে। পরে তারা বুঝতে পারেন, ওই নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তখন লোকজন ফজর আলীকে আটক করে মারধর করেন এবং হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে সেখান থেকে সে পালিয়ে যায়।
পরে আজ ভোরে তাকে ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনার একটি ভিডিও গতকাল শনিবার রাতে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

