কুমিল্লা নগরের কালিয়াজুরী এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী ও তার মায়ের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। রোববার গভীর রাতে পিটিআই মাঠসংলগ্ন নীলি কটেজের দ্বিতীয় তলার ভাড়া বাসা থেকে তাঁদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহতরা হলেন তাহমিনা বেগম (৫০) ও তাঁর মেয়ে সুমাইয়া আফরিন রিংকি (২২)। রিংকি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী। তাঁদের স্বামী ও বাবা নুরুল ইসলাম আদালতের হিসাবরক্ষক ছিলেন। কয়েক বছর আগে তাঁর মৃত্যু হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রাতে নিহতের বড় ছেলে ঢাকা থেকে বাসায় ফিরে দরজা খোলা পান। ভেতরে গিয়ে মা ও বোনকে খাটে শুয়ে থাকতে দেখেন। পরে ছোট ভাই আসার পরও নড়াচড়া না দেখে ডাকাডাকি করলে তাঁদের মৃত অবস্থায় পান।
নীলি কটেজের মালিক আনিসুর রহমান বলেন, রাত ১টার দিকে নিহতের ছেলে আল আমিন ফোনে জানান, তাঁর মা ও বোনকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি দুইটি আলাদা কক্ষে তাঁদের মরদেহ দেখতে পান।
ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রোববার সকাল ৮টার দিকে মাথায় টুপি, পাঞ্জাবি–পাজামা পরা এক ব্যক্তি ওই বাসায় প্রবেশ করেন। সকাল ১১টার দিকে বের হয়ে কিছুক্ষণের মধ্যে আবার প্রবেশ করেন। দুপুর দেড়টা পর্যন্ত তাঁকে বের হতে দেখা যায়নি।
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম বলেন, নিহতের শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন নেই। তবে মেয়ের গলায় হালকা দাগ এবং মায়ের চোখে রক্তের চিহ্ন পাওয়া গেছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল মালিক বলেন, খাটের নিচে একটি বালিশ পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, শ্বাসরোধ করে তাঁদের হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট হবে।
পড়ুন: কুমিল্লায় ৫ কোটি টাকার মোবাইল ডিসপ্লেসহ কাভার্ডভ্যান জব্দ
এস/


