কুমিল্লায় গৃহবধূ শানু বেগমকে (৫০) গলাকেটে হত্যার দায়ে প্রতিবেশী দেলোয়ার হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাঁকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগের আদেশ দেওয়া হয়েছে।রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
রবিবার (৩১ আগস্ট) কুমিল্লার জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল ও বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সাইফুর রহমান এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি দেলোয়ার হোসেন (৩৬) কুমিল্লা সদর উপজেলার কালীরবাজার ইউনিয়নের হাতিগাড়া গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, জমির সীমানা নিয়ে পূর্ব শত্রুতার জেরে ২০১৯ সালের ৫ নভেম্বর ভোরে হাতিগাড়া গ্রামের নিজ বাড়ির রান্নাঘরে তেলের পিঠা বানাচ্ছিলেন শানু বেগম। এসময় প্রতিবেশী দেলোয়ার হোসেন সেখানে ঢুকে তাঁকে লক্ষ্য করে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে গলায় আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই গুরুতর জখম হলে স্থানীয়রা তাঁকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রেহেনা ও জুবায়েরের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে দেলোয়ারকে আটক করে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে এবং পরে পুলিশে সোপর্দ করে। ওইদিনই নিহতের স্বামী ফরিদ মিয়া কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত শেষে পুলিশ ২০২০ সালের ১৯ মে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষে ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আজ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী বলেন, এটি একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড ছিল। আদালতের রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। উচ্চ আদালতেও যেন এই রায় বহাল থাকে সেটাই প্রত্যাশা।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের সিনিয়র অ্যাডভোকেট মাসুদ সালাউদ্দিন বলেন, এ রায়ে আমরা ক্ষুব্ধ। রায়ের কপি হাতে পেলে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।
পড়ুন: সোনারগাঁয়ে দলিল লিখক হত্যা মামলায় স্ত্রীর যাবজ্জীবন, পরকীয়া প্রেমিকের মৃত্যুদন্ড
দেখুন: সিলেট ভ্রমণে এসে মুগ্ধ গ্রিক আইনজীবী
ইম/


