কুমিল্লা শহরের কালিয়াজুরী এলাকায় ফ্ল্যাটের ভেতর থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আফরিন (২৩) ও তার মা তাহমিনা বেগমের (৫৫) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনার পর পর সিসিটিভি ফুটেজে এক অজ্ঞাত ব্যক্তির উপস্থিতি ঘিরে রহস্য তৈরি হয়েছে।
পাশের একটি স্কুলের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রোববার সকাল ৮টা ৮ মিনিটে মাথায় টুপি ও পাঞ্জাবি-পায়জামা পরিহিত এক ব্যক্তি ওই ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন। বেলা ১১টা ২২ মিনিটে তাকে বের হতে দেখা যায়। তবে মাত্র ১২ মিনিট পর তিনি আবার ভেতরে ঢোকেন। এরপর দুপুর ১টা ৩৫ মিনিট পর্যন্ত তাকে আর বের হতে দেখা যায়নি। পরে স্কুল ছুটি হয়ে গেলে সিসিটিভি ক্যামেরাও বন্ধ হয়ে যায়।
নিহতের বড় ছেলে, ঢাকায় কর্মরত আইনজীবী, রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাসায় এসে দরজা খোলা পান। ভেতরে গিয়ে মা ও বোনকে খাটে শুয়ে থাকতে দেখে কোনো সাড়া না পেয়ে ছোট ভাইকে ডাকেন। পরে নিশ্চিত হন, তারা দুজনেই মারা গেছেন।
তাহমিনা বেগম উত্তর কালিয়াজুরীর মৃত শামসুল হকের মেয়ে। তার স্বামী, আদালতের সাবেক হিসাবরক্ষক নুরুল ইসলাম, গত বছর মারা যান। এরপর তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে ওই ফ্ল্যাটে বসবাস করছিলেন।
এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার সকাল থেকে দিনভর নিহত শিক্ষার্থীর সহপাঠী, স্বজন ও এলাকাবাসী নগরীর কান্দিরপাড়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। পরে তারা জেলা পুলিশ কার্যালয় ঘেরাও করে হত্যাকারীকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মহিনুল ইসলাম বলেন, “এটি একটি রহস্যজনক ঘটনা। সিসিটিভি ফুটেজসহ সব আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। এটি হত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু, তা ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে। তদন্ত চলছে।
পড়ুন: গাইবান্ধায় মহাসড়কের পাশে যুবকের লাশ উদ্ধার
দেখুন: কুষ্টিয়ায় পদ্মার ভাঙনে বিলীন বেড়িবাঁধ-বিদ্যুতের টাওয়ার
ইম/


