১৫/০১/২০২৬, ১১:৩১ পূর্বাহ্ণ
16 C
Dhaka
১৫/০১/২০২৬, ১১:৩১ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

কুশিয়ারা নদীর অবৈধ বালু উত্তোলন ও নদী ভাঙন এলাকা পরিদর্শনে পরিবেশবিদরা

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার পাহাড়পুর এলাকায় কুশিয়ারা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তীরবর্তী এলাকা হুমকির মুখে পড়েছে। অনিয়ন্ত্রিত বালু উত্তোলনের ফলে কুশিয়ারা নদীর ভাঙন হচ্ছে তীব্র, বসতভিটা হারানোর শঙ্কা তৈরি হচ্ছে স্থানীয়দের মাঝে। কুশিয়ারা নদীর অবৈধ বালু উত্তোলন ও নদী ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছেন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা ধরা’র কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব শরীফ জামিলসহ পরিবেশবিদরা।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা’র) কেন্দ্রীয় সাবেক সাধারণ সম্পাদক, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংগঠন ওয়াটারকিপার অ্যালায়েন্সের কার্যনির্বাহী সদস্য, ধরিত্রী রক্ষায় আমরা ধরা’র কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব শরীফ জামিল, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেটের সাধারণ সম্পাদক ও ধরিত্রী রক্ষায় আমরা ধরা’র কেন্দ্রীয় সদস্য আবদুল করিম চৌধুরী (কিম), বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক ও ধরিত্রী রক্ষায় আমরা ধরা’র হবিগঞ্জের সদস্য সচিব তোফাজ্জল সোহেলসহ পরিবেশবিদরা কুশিয়ারা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন ও ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন।


এসময় স্থানীয়রা জানান- ড্রেজার মেশিনের সাহায্যে দিন-রাত বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ওয়াহিদ এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান অনুমতি থাকার দাবি করলেও তাদের বালু উত্তোলনের পরিমাণ এবং শর্ত সম্পর্কে এলাকাবাসীকে অবহিত করেনি। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ছয় লেনের কাজে বালু দেয়ার কথা থাকলেও ওয়াহিদ এন্টারপ্রাইজ বিভিন্ন পক্ষের কাছে বালু বিক্রি করছে।

নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ওয়াহিদ এন্টারপ্রাইজের ব্যানারে, বিভিন্ন স্থানে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন চলছে, যা আশপাশের নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়া মা এন্টারপ্রাইজ, রনি এন্টারপ্রাইজ, রাইসা এন্টারপ্রাইজ, আলী এন্টারপ্রাইজ নামক প্রতিষ্ঠান সম্পূন্ন অবৈধভাবে কুশিয়ারা নদীতে ৫-৬টি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে।

স্থানীয়রা আরও জানান, প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের এজেন্টরা স্থানীয়দের ভয়ভীতি ও মামলার হুমকি দিয়ে বালু উত্তোলনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, ফলে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। একদিকে অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে এলাকা ভাঙছে অন্যদিকে ৫৭৩ কোটি টাকা ব্যয়ে কুশিয়ারা প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজ চলমান থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন পরিবেশবিদরা। নদী খনন না করে কুশিয়ারা প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের প্রকল্প অর্থ লুটপাটের মাধ্যম বলে মনে করেন তারা।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ধরিত্রী রক্ষায় আমরা ধরা’র কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব শরীফ জামিল বলেন, রাজনৈতিক প্রভাবে অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের ফলে কুশিয়ারা নদীতে ভাঙন তরান্বিত হবে, আবার ভাঙনরোধ করার নামে এখানে ব্লকের ব্যবসা চলছে। কুশিয়ারা নদীর ভাঙন রোধ করতে বড় একটি প্রতিরক্ষা বাঁধের প্রজেক্ট নেয়া হয়েছে, মূলত এগুলো হচ্ছে প্রজেক্ট বানিজ্য। তিনি বলেন- অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে নদীকে নষ্ট করে দেয়া হচ্ছে।

শরীফ জামিল বলেন, বালু উত্তোলন ও ব্লকের প্রজেক্ট কোনোটিই স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে নেয়া হয়নি বরং এই প্রকল্পগুলো দুর্নীতির মাধ্যমে একে অপরকে সহযোগিতা করছে। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনার চেষ্টা করবো এবং যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাবো। যদি দ্রুত অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ না করা হয়, তাহলে কুশিয়ারা নদীর পাড়ের স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসবে। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : হবিগঞ্জে বিএনপির উদ্যোগে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন