মুরাদনগরে জন্মদিন উপলক্ষে বিদ্যালয়ের মাঠে এক কিশোরকে গোলপোস্টের খুঁটির সাথে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তারই সহপাঠীদের বিরুদ্ধে। আর সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শুরু হয়েছে তুমুল সমালোচনা।
ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওর সূত্র ধরে জানা যায়, বুধবার বিকেলে মুরাদনগর ডি.য়ার সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে ঘটে এই ঘটনা। মুরাদনগর ডিয়ার সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র আব্দুর রহমানকে জন্মদিনের কথা বলে মাঠে নিয়ে যায় তার সহপাঠীরা। পরে গোলপোস্টের খুঁটির সাথে তার হাত বেঁধে তার গায়ে ছোড়া হয় ডিম।
স্থানীয় বাসিন্দা খলিলুর রহমান দূর থেকে ঘটনাটি দেখে ছুটে এসে কিশোরটিকে মুক্ত করেন। পরে তিনি ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকে প্রকাশ করলে মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়ে যায়। নেটিজেনদের কেউ লিখেছেন— “আমি তো মনে করেছি সে কোনো চোর।”
অন্যরা এই ঘটনাকে ‘অসুস্থ সমাজব্যবস্থা’ ও ‘অসুস্থ প্রজন্ম’ বলে মন্তব্য করেছেন।
তবে ওই কিশোর আব্দুর রহমানের দাবি, তার জন্মদিন উদযাপন করতে গিয়ে আনন্দ করেছে বন্ধুরা। বিগত দিনেও অন্যান্য বন্ধুদের ক্ষেত্রে এমনটাই হয়েছে।
ঘটনাটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত দাবি করে মুরাদনগর ডি.য়ার সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ ময়নল হোসেন জানান, বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে রেগিং নামক যে ছাত্র নির্যাতন হয়ে থাকে আমার মনে হয় সেখান থেকে উদ্বুদ্ধ হয়েই তারা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত সকল শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের ডাকা হবে। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয় সেজন্য কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ ঘটনায় কঠোর অসন্তোষ প্রকাশ করে মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আব্দুর রহমান জানান, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের উশৃংখল পরিবেশ এটা বাস্তবসম্মত না। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে শিক্ষা কর্মকর্তা ও প্রধান শিক্ষককে আমার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
মুরাদনগরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ে ছাত্রদের মধ্যে বেড়ে ওঠা উশৃঙ্খলতা ও অনৈতিক আচরণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
কীভাবে একটি আনন্দঘন জন্মদিন মুহূর্ত পরিণত হলো অপমানজনক নির্যাতনে—তার উত্তর খুঁজছে এলাকাবাসী।
পড়ুন: ডাকসু সদস্য রাফিয়ার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণ, থানায় মামলা
দেখুন: ডাকসু সদস্য রাফিয়ার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণ, থানায় মামলা
ইম/


