চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শনিবার (১৪ মার্চ) নগরের ডিসি হিল প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন। এ সময় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, সিভিল সার্জন, পুলিশ সুপার এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনের পর ডিসি হিলের আশপাশ এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। পরে সকাল সাড়ে ১০টায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ থেকে একটি সচেতনতামূলক র্যালি বের হয়। র্যালিটি নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সার্কিট হাউজে এসে শেষ হয়।
র্যালি শেষে সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন এবং সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম। সভায় সভাপতিত্ব করেন মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, সামনে বর্ষা মৌসুম আসছে। তাই এখন থেকেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা গেলে নগরবাসীকে ডেঙ্গুর ঝুঁকি থেকে অনেকটাই রক্ষা করা সম্ভব।
সভায় বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। বিশেষ করে বাসাবাড়ি, নির্মাণাধীন ভবন ও আশপাশের এলাকায় জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে যাতে মশার লার্ভা জন্মাতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ডেঙ্গুকে একটি মহামারি রোগ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে দোষারোপ করে ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব নয়। সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি জানান, ডেঙ্গুর মৌসুম শুরু না হলেও ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় ৯৫ জন মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং গত মাসে একজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। মানুষের জীবন রক্ষায় আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেলায় ৯৫ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং একজন মারা গেছেন।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, মাসব্যাপী এই পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতা কার্যক্রমের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো পরিষ্কার করা হবে এবং জনগণকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সম্পৃক্ত করা হবে। কর্মসূচিতে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের সদস্য, শিক্ষার্থী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।
জেলা প্রশাসন ভবিষ্যতেও ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছে।
পড়ুন: ৩ দেশের মার্কিন ঘাঁটি ধ্বংস করেছে ইরান
আর/


