বিজ্ঞাপন

ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব শামিমা সাত্তার মিমু মারা গেছেন

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে কিছু মানুষ থাকেন, যাঁরা নিভৃতেই ইতিহাস গড়ে যান। আলোচনার ঝলকানির বাইরে থেকেও তাঁরা রেখে যান অনন্য এক উত্তরাধিকার। তেমনই এক নিবেদিত প্রাণ ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব ছিলেন শামিমা সাত্তার মিমু। রাষ্ট্রীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত এই সাবেক অ্যাথলেটের বিদায়ে আজ শোকাহত দেশের ক্রীড়াঙ্গন, বিশেষ করে অ্যাথলেটিক্স পরিবার।

১৩ মার্চ ২০২৬, রাত আনুমানিক ১১টা। ঢাকার নিজ বাসভবনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন তাঁর পুত্র শাহরিয়ার শরীফ।

জীবনের দীর্ঘ পথচলায় শামিমা সাত্তার মিমু ছিলেন একাধারে প্রতিভাবান অ্যাথলেট, দক্ষ প্রশিক্ষক, বিচক্ষণ সংগঠক এবং ক্রীড়া প্রশাসক। দেশের অ্যাথলেটিক্সকে এগিয়ে নিতে তিনি মাঠে যেমন দৌড়েছেন, তেমনি প্রশাসনিক দায়িত্বেও ছিলেন সমান সক্রিয় ও আন্তরিক।

অ্যাথলেট হিসেবে তাঁর উত্থান ছিল কঠোর পরিশ্রম আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির গল্প। সেই সময়ের সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন জাতীয় পর্যায়ের একজন উজ্জ্বল অ্যাথলেট হিসেবে। তাঁর সেই অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি লাভ করেন জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার—যা দেশের ক্রীড়াবিদদের জন্য অন্যতম সম্মানজনক স্বীকৃতি।

খেলোয়াড়ি জীবন শেষ হলেও থেমে থাকেননি তিনি। বরং নতুন এক অধ্যায় শুরু করেন ক্রীড়া প্রশাসন ও প্রশিক্ষণের জগতে। তিনি দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন–এর কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে। সেই দায়িত্বে থেকে তিনি দেশের অ্যাথলেটিক্সের উন্নয়ন, প্রতিভা বিকাশ এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

শুধু সংগঠক হিসেবেই নয়, তিনি ছিলেন একজন দক্ষ প্রশিক্ষক এবং আন্তর্জাতিক মানের বিচারকও। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতায় বিচারক ও কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন নিষ্ঠার সঙ্গে। নতুন প্রজন্মের অ্যাথলেটদের গড়ে তুলতে তাঁর ভূমিকা ছিল নিঃস্বার্থ এবং অনুপ্রেরণাদায়ী।

ক্রীড়া প্রশাসনের পাশাপাশি তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)–এর উপ-পরিচালক (প্রশিক্ষণ) হিসেবে। সেখানে তিনি অসংখ্য তরুণ খেলোয়াড়কে শৃঙ্খলা, পরিশ্রম এবং স্বপ্ন দেখার শিক্ষা দিয়েছেন। অনেকেই আজ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছে—যাদের পেছনে তাঁর মতো মানুষের নীরব অবদান রয়েছে।

পেশাগত জীবনের বাইরে পারিবারিক জীবনেও তিনি ছিলেন এক স্নেহময়ী মা, দায়িত্বশীল অভিভাবক এবং পরিবারের প্রেরণার উৎস। তাঁর সন্তান ও পরিবার ছিল তাঁর শক্তি, আর ক্রীড়াঙ্গন ছিল তাঁর বিস্তৃত পরিবার। পরিবার, সহকর্মী, শিক্ষার্থী এবং অসংখ্য অ্যাথলেটের কাছে তিনি ছিলেন এক প্রিয় মুখ, যাঁর কাছে পাওয়া যেত উৎসাহ, সাহস আর দিকনির্দেশনা।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে তিনি ভাটিকা ও হৃদরোগজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। জীবনের শেষ সময়েও তিনি ছিলেন শান্ত, স্থির এবং বিশ্বাসে অটল। তাঁর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী, ঢাকার বাসভবন থেকে তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে দিনাজপুরে—যেখানে তাঁর পিতার কবরের পাশেই তাঁকে দাফন করা হবে।

তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন–এর সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ, কর্মকর্তা, কোচ এবং অ্যাথলেটরা। তাঁদের মতে, তাঁর মতো নিবেদিত মানুষ ক্রীড়াঙ্গনে বিরল—যিনি নীরবে কাজ করে গেছেন দেশের জন্য।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : চোট পেয়ে হাসপাতালে পাকিস্তানি ক্রিকেটার

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন