খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার শব্দমিয়া পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন জরাজীর্ণ, নেই শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো খেলার মাঠ। সাধারণ শিক্ষার্থীরা যা পাওয়ার কথা অন্য স্কুলের মতো তার কিছুই নেই এই বিদ্যালয়ে।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে স্থানীয় শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বিদ্যালয়। তবে বর্তমানে বিদ্যালয়টি মারাত্মক অবহেলা ও অবকাঠামোগত সংকটে ভুগছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। দেয়ালের প্লাস্টার খসে পড়ছে, উপরে চালের টিন ফুটো হয়ে বৃষ্টির দিনে পানি পড়ছে। বর্ষাকালে টিন চুঁইয়ে পানি পড়ায় শ্রেণিকক্ষে পাঠদান প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। এতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সবসময়ই ঝুঁকির মধ্যে থাকেন।

শিক্ষার্থীরা জানান, মাঠ না থাকার কারনে শিক্ষার্থীরা শারীরিক শিক্ষার কোনো কার্যক্রম করতে পারেনা। বৃষ্টি হলে শ্রেণী কক্ষে ক্লাস করতে পারেনা। এতে তাদের খুব সমস্যা হয়।
বিদ্যালয়ের অন্যতম বড় সমস্যা হলো খেলার মাঠের অভাব। শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য মাঠ প্রয়োজন হলেও এখানে কোনো মাঠ নেই। ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক শিক্ষার সময় বা অবসরে খেলাধুলা করতে পারে না। অনেক সময় বিদ্যালয়ের আঙিনা বা পাশের রাস্তাতেই তারা সীমিত পরিসরে খেলার চেষ্টা করে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু কিছুই করার নেই শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। এভাবেই চলছে বিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, অবকাঠামোগত এই সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও মনোযোগে প্রভাব পড়ছে। পাশাপাশি মাঠের অভাবে তারা খেলাধুলার মাধ্যমে যে শিক্ষা ও আনন্দ পেতে পারত, তা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে। এসব সংস্কার করা হলে এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অন্য বিদ্যালয়ের মতো এগিয়ে যেতে পারতো।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, এই বিদ্যালয় ভবনটি করার পর থেকে আর কোনো সংস্কার করা হয়নি এভাবেই আছে। আমরা চাই নতুন ভবন হোক এবং খেলার মাঠ সৃষ্টি হোক।

স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের অভিযোগ, একাধিকবার স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও সমস্যার সমাধানে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অভিভাবকরা আশঙ্কা করছেন, এভাবে চলতে থাকলে বিদ্যালয়ের ভবন যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
বৃষ্টির সময় বন্যা হলে শব্দমিয়া পাড়ার মানুষ এই বিদ্যালয়ে আশ্রয় নেয়। কিন্তু বেশি পরিমান পানি উঠলে তখন বিদ্যালয়ের অর্ধেক পরিমান পানি হয়ে যায়। তখন পাড়ার মানুষের আর কোনো উপায় থাকেনা।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা বলেন, তবে এই স্কুলের যে জরাজীর্ণ অবস্থা তা সংস্কার করা খুবই জরুরি। এই ভবন নতুন করে করার জন্য প্রস্তুত জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ। যেহেতু এলাকায় বন্যা হলে বিদ্যালয়টিকে আশ্রয় কেন্দ্র বিসেবে ব্যবহার করা হয় আমরা সেই বিষয়টি মাথায় রেখে ভবন নির্মাণের জন্য বলবো। আমরা এই স্কুল তৈরি করতে সবরকম কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা দ্রুত বিদ্যালয়ের ভবন সংস্কার, নতুন ভবন নির্মাণ এবং খেলার মাঠের ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে শিশুরা নিরাপদ ও আনন্দময় পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারে।
পড়ুন: খাগড়াছড়িতে আদিবাসী দিবস পালিত
এস/


