১৪/০১/২০২৬, ৮:০৫ পূর্বাহ্ণ
15 C
Dhaka
১৪/০১/২০২৬, ৮:০৫ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

খাগড়াছড়িতে ইট সংকটে থমকে গেছে উন্নয়ন প্রকল্প

ইট সংকটে থমছে গেছে খাগড়াছড়ির অনেক সরকারী-বেসরকারি উন্নয়ন প্রকল্প।বাড়তি দামে মিলছে না ইট। থমকে গেছে স্থানীয়দের বসত বাড়ি সহ বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন কাজ। এর ফলে স্থানীয়দের জীবনমানে প্রভাব পড়বে দাবি সংশ্লিষ্টদের। সে সাথে জেলায় বাড়তে পারে নানা অপরাধ প্রবণতা। এ নিয়ে বাড়ছে ক্ষোভ। যা ক্ষিক্ষোভেও রূপ নিতে পারেন।

বিজ্ঞাপন

আঞ্চলিক সমস্যা ও ভৌগলিক কারণে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে বিভিন্ন খাতে পিছিয়ে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা। এ অঞ্চলের জন্য সরকারের পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ও পার্বত্য জেলা পরিষদ নামে বিশেষ দুইটি উন্নয়ন সংস্থা থাকলেও ইট সংকটে তা যেন কোন কাজেই আসছে না। ঠিকাদারদের অভিযোগ চাহিদা মতো ইট না থাকায় বন্ধ হয়ে গেছে সরকারি অনেক উন্নয়ন প্রকল্প।

সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের চাপ দিচ্ছে। বাড়তি দামেও ইট মিলছে না। আবার বাড়তি দামে ইট কিনে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে লোকসানের মুখে পড়ছে ঠিকাদাররা।

উপজাতীয় ঠিকাদার সমিতির সভাপতি রিপ চাকমা জানান, বর্তমানে ইট সংকটের কারণে জেলায় শত কোটি টাকার উন্নয়ন প্রায় বন্ধ রয়েছে। চলতি অর্থ বছরে উন্নয়ন প্রকল্পের বিপরীতে কয়েকশত কোটি টাকা বরাদ্ধ রয়েছে। ফলে ইট সংকট নিরসন না হলে উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

খাগড়াছড়ি জেলা ঠিকাদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহেদুল হোসেন সুমন বলেন, সরকার ঠিকাদারকে ডেভেলপমেন্ট পার্টনার ঘোষনা করেছে কিন্তু তাদেরকে যে উপাদানগুলো দেওয়া উচিৎ তা দিচ্ছেনা। সরকার উন্নয়ন প্রকল্পে ইটের যে দাম নির্ধারন করেছে তার দ্বিগুণ দামেও ইট পাওয়া যাচ্ছেনা ইট ভাটা বন্ধ হওয়ার কারনে। এভাবে চলতে থাকলে এই এলাকার উন্নয়ন কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

স্থানীয় ভুক্তভোগিদের অভিযোগ,ইট ভাটা বন্ধ থাকায় উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি থমকে গেছে স্থানীয়দের বসতবাড়িসহ বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন কাজ। ফলে জীবনমানে প্রভাব পড়ছে। আগামীতে এ প্রভাব আরো প্রকট হবে। ফলে ভাড়তে পারে অপরাধ প্রবনতা।

ভূক্তভোগিরা জানান, আমরা এখানে কাজ করে যে বেতন পাই সেটা দিয়ে পরিবার চালাতো। কিন্তু এখন বন্ধ হওয়ার কারনে আমাদের কোনো আয় নেই। বেকার হয়ে পড়েছি। সংসার চালাতে পারছিনা। যদি সরকার এটার অনুমোদন দিতো তাহলে আমরা এখানে কাজ করে সুন্দরভাবে পরিবার নিয়ে বাঁচতে পারতাম।

খাগড়াছড়ি টাক্টর মালিক মোঃ ইব্রাহিম জানান, ইট ভাটা চালু থাকলে আমাদের সকল গাড়ি নিয়মিত চলাচল করতো। এখন ভাটা বন্ধ হওয়ার কারনে সব গাড়ি বন্ধ হয়ে আছে। এতে করে সকল ড্রাইভার বেকার দিন পার করছে। এই পরিস্থিতির কারনে বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ড ঘটতে পারে। তাই আমাদের অনুরোধ সরকার যাতে ইট ভাটা চালুর জন্য অনুমতি দেয়।

খাগড়াছড়ি ইট ভাটা মালিক সমিতির সভাপতি হাফেজ আহমেদ ভূইয়া জানান, ইট ভাটার মালিকদের অভিযোগ বিশেষ অঞ্চলের অজুহাতে দীর্ঘ ১ যুগের বেশী সময় ধরে খাগড়াছড়িসহ তিন পার্বত্য জেলায় ইট ভাটা পরিচালনায় অনুমতি দিচ্ছেনা স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর। প্রতিবছর আদালতের রীট ও ভ্রাম্যমান আদালতে জরিমানা ঘুণে ভাটা চালিয়ে আসলেও এ বছর মৌসুমের শুরু থেকে কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। এতে একদিকে যেমন অনিশ্চিত জেলার ৩০ টির বেশী ভাটায় উৎপাদন চালু নিয়ে তেমনি আছে আগাম বিনিয়োগ ফিরে পাওয়াসহ হাজারও শ্রমিক বেকার হওয়ার শঙ্কা। কঠোর শর্ত মেনে ভাটা চালু করতে রাজি থাকলেও প্রশাসন থেকে কোন সিদ্ধান্ত মিলছেনা।

ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন আইন ২০১৩ ও ২০১৯ সালের সংশোধনীর ৮ এর উপধারা ৩ এর ঘ- এ পার্বত্য চট্টগ্রামে ভাটা স্থাপনে জেলা পরিবেশ উন্নয়ন কমিটির স্থান ঠিক করে দেয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। আদালতের আদেশে ভাটার অনুমোদন দেয়া স্থগিত বলছে পরিবেশ অধিদপ্তর। আর ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে ও জেলার উন্নয়নের স্বার্থে শর্ত মেনেও ভাটা স্থাপনের অনুমোদন চায় মালিক পক্ষ।

তবে এবিষয়ে জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাত মৌখিকভাবে জানিয়েছে আদালতের আদেশ অনুযায়ী কোনো ইট ভাটা চালু করা যাবেনা।

উল্লেখ্য, সংকট উত্তরণে জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাতের সাথে সংশ্লিষ্টরা সাক্ষাত করলেও কোন সুরাহা হয়নি।

পড়ুন- মেহেরপুরে আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস পালিত

দেখুন- ইরানের মি/সা/ই/ল কারখানা ২৪ ঘণ্টা চলছে?

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন