ইরান ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে লেবাননের প্রভাবশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, যদি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা করা হয় বা সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করে, তাহলে হিজবুল্লাহও এই যুদ্ধে যুক্ত হবে। এমন তথ্যই প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্য ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম মিডল ইস্ট আই।
মিডল ইস্ট আইকে দেওয়া এক বক্তব্যে হিজবুল্লাহ সংশ্লিষ্ট একটি গোপন সূত্র জানায়, গোষ্ঠীটির আদর্শিক ‘রেড লাইন’ রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে: খামেনিকে হত্যা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সম্পৃক্ততা। এ ধরনের ঘটনা ঘটলে পরিস্থিতির হিসাব বদলে হিজবুল্লাহও সরাসরি এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়বে।
এর আগে রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহর এক কর্মকর্তা বলেছিলেন, তারা ইরানের ওপর হামলার প্রতিক্রিয়ায় সরাসরি ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে হামলা চালাবে না। তবে মিডল ইস্ট আইকে হিজবুল্লাহ ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানায়, রয়টার্সের সেই তথ্য ছিল ভুল বা বিভ্রান্তিকর।
গত শনিবার হিজবুল্লাহর আইনপ্রণেতা হাসান ফাদলাল্লাহ এক বক্তব্যে বলেন, “ইরান আত্মরক্ষা করতে জানে।” এর মাধ্যমে তিনি বুঝাতে চান, ইরানের পক্ষে কথা বললেও হিজবুল্লাহ সরাসরি যুদ্ধ শুরু করবে না। তবে নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম হলে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে।
অন্যদিকে, একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা আলজাজিরাকে বলেন, যদি ওয়াশিংটন সরাসরি এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে হিজবুল্লাহ সহ ইরানের আঞ্চলিক মিত্রদের প্রতিক্রিয়া আসবেই।
এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য এই আশঙ্কাকে আরও জোরালো করেছে। সিবিএস নিউজ জানায়, ট্রাম্প ইতোমধ্যেই ইরানে হামলার পরিকল্পনা অনুমোদন করেছেন, যদিও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।
এছাড়া নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “ওয়াশিংটন জানে খামেনি কোথায় আছেন, তবে আপাতত তাকে হত্যা করা হবে না।”
এই মন্তব্য নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা ও উদ্বেগ। কারণ এটি ইঙ্গিত দেয়, ভবিষ্যতে খামেনিকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা বিবেচনায় আছে।
এরই মধ্যে ইসরায়েল গত ১৩ জুন থেকে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে। জবাবে ইরানও ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে একের পর এক পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। এই পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত উভয়পক্ষেই বহু হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি হিজবুল্লাহ এই যুদ্ধে সরাসরি জড়িয়ে পড়ে, তাহলে লেবানন সীমান্ত জুড়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নতুন ফ্রন্ট খুলে যাবে। একই সঙ্গে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়তে পারে সিরিয়া, ইরাক, ইয়েমেন এমনকি গাজার দিকেও, যেখানে ইরানের প্রভাব রয়েছে।
এই মুহূর্তে যুদ্ধ পরিস্থিতি গভীর পর্যায়ে গেলেও, অনেক কিছু নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর এবং খামেনিকে ঘিরে ইসরায়েলের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তার ওপর।
মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, একটি ভুল সিদ্ধান্ত গোটা অঞ্চলকে টেনে নিতে পারে বহু বছর ধরে চলা আরেকটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্যে।
এনএ/


