মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে একটি সহিংস মৃত্যুর হাত থেকে তিনি রক্ষা করেছেন। এমন মন্তব্যে ক্ষুব্ধ ইরান এ ধরনের ‘অসম্মানজনক ভাষা’ বন্ধ করতে হবে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ট্রাম্পকে। ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্য নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্কে। নিজের মালিকানাধীন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ তিনি দাবি করেন, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির অবস্থান তিনি জানতেন এবং তার নির্দেশে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী চাইলে তাঁকে হত্যা করতে পারতেন।
ট্রাম্পের দাবি সেটি হতে দেননি তিনি। বরং এক ‘সহিংস ও অপমানজনক মৃত্যু’ থেকে খামেনিকে বাঁচিয়েছেন বলে দাবি করেন ট্রাম্প।
তিনি লিখেছেন, “আমি ঠিক জানতাম, তিনি কোথায় আশ্রয় নিয়েছেন। আমি তাঁদের জীবন শেষ করতে দিইনি।” ট্রাম্প আরও বলেন, “তাঁর আমাকে ‘ধন্যবাদ, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প’ বলা লাগবে না।”
এই মন্তব্য সামনে আসতেই পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেয় তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক মাধ্যম এক্স বা সাবেক টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘অসম্মানজনক ও অগ্রহণযোগ্য’ বলে নিন্দা জানান।
তিনি বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যদি সত্যি কোনো চুক্তি চান, তাহলে তাঁকে আয়াতুল্লাহ খামেনির প্রতি অসম্মানজনক ভাষা ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।” আরাগচি আরও বলেন, ইরানি জনগণ যে ‘শক্তিশালী ও গৌরবান্বিত জাতি’, তা প্রমাণিত হয়েছে সাম্প্রতিক সংঘাতে।
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষায়, “ইসরায়েলি বাহিনীকে আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র থেকে বাঁচতে তাদের ‘ড্যাডি’-এর কাছে ছুটতে হয়েছে।” এখানে ড্যাডি বলতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের দিকেই ইঙ্গিত দিয়েছেন।
গত ১৩ জুন শুরু হওয়া ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রও জড়িয়ে পড়ে। ওই সময়ে মার্কিন সেনাবাহিনী ইরানের অন্তত তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়।
যদিও এই হামলার কার্যকারিতা নিয়ে রয়েছে নানা মতভেদ। অবশেষে ১২ দিন চলা এই সংঘাতে ইরান-ইসরায়েলের মধ্যে অবশেষে যুদ্ধবিরতি হয়।
এই প্রেক্ষাপটেই ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছিলেন। তবে তেহরানের পক্ষ থেকে ‘রাগ, ঘৃণা ও ক্ষোভ’ আসায়, সব আলোচনা বন্ধ করে দেন তিনি। তাঁর ভাষায়, “নিষেধাজ্ঞা শিথিলসহ অন্য সব কাজ বন্ধ করে দিই।”
ট্রাম্প এখন আবার ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফেরার আহ্বান জানাচ্ছেন। তবে তেহরান জানিয়েছে, তাদের কোনো আলোচনার পরিকল্পনা নেই।
ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে আবারও উত্তেজনার দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ইরান বলছে, তাদের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অপমানমূলক বক্তব্য তারা কখনোই মেনে নেবে না।
এমন উত্তপ্ত অবস্থায় দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক ভবিষ্যৎ কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, তা এখন সময়ই বলে দেবে।
এনএ/


