বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর শারীরিক অবস্থা জানার জন্য যেমন দেশের মানুষ আগ্রহী, তেমনি রয়েছে গভীর উদ্বেগও। জানা গেছে, তাঁর অবস্থা খুব একটা পরিবর্তন হয়নি এবং চিকিৎসকরা তাঁকে এখনও স্থিতিশীল হিসেবেই বিবেচনা করছেন। বর্তমানে তাঁর চিকিৎসার তত্ত্বাবধান করছেন দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।
খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে নানা গুঞ্জন চলছে, বিশেষত তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে। বিএনপি ও তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে বিএনপির সূত্র জানিয়েছে, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। এছাড়া, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফিরে আসার সম্ভাবনাও এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে সম্পর্কিত।
এভারকেয়ার হাসপাতালে খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় সহায়তা করতে যুক্তরাজ্য থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ড. রিচার্ড বিল ঢাকায় এসে চিকিৎসক দলের সাথে যোগ দিয়েছেন। একই সঙ্গে, চীন থেকেও চারজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তাঁর চিকিৎসায় যুক্ত হয়েছেন।
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে দেশি-বিদেশি চিকিৎসকরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছেন।
এভারকেয়ার হাসপাতালের মেডিকেল বোর্ড জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের মাউন্ট সিনাই এবং জনস হপকিনস হাসপাতাল, পাশাপাশি যুক্তরাজ্য, চীনসহ অন্যান্য দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছে।
এদিকে, খালেদা জিয়ার ফুসফুসে সংক্রমণের কারণে কিছুটা উন্নতি হলেও, হৃদরোগে জটিলতা অব্যাহত রয়েছে। অন্যান্য শারীরিক সমস্যা অপরিবর্তিত রয়ে গেছে। চিকিৎসকরা জানান, বর্তমানে তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা জানাতে ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, ডাক্তাররা যে চিকিৎসা দিচ্ছেন সেটি উনি গ্রহণ করতে পারছেন। তবুও বিদেশে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি আছে কি না মেডিকেল বোর্ডের সদস্যদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ ছাড়া বিদেশে নেওয়ার সুযোগ নেই।
গত শনিবার (২৯ নভেম্বর) মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া বেশ কয়েকদিন ধরে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে আছেন। তাকে বিদেশে নেওয়ার মতো শারীরিক অবস্থা নেই। শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলে চিন্তা করে দেখা হবে যে, তাকে বিদেশে নেওয়া সম্ভব হবে কি না।
খালেদা জিয়া গত ২৩ নভেম্বর রাতে শ্বাসকষ্ট অনুভব করলে তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ে এবং পরিস্থিতি সংকটজনক হওয়ায় তাঁকে সিসিইউতে স্থানান্তরিত করা হয়।
এদিকে আজ খালেদা জিয়াকে দেখতে গিয়েছেন ব্রিটিশ হাইকশিনার। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় খালেদা জিয়াকে দেখতে হাসপাতালে যান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। এর আগে দেখতে যান তিন বাহিনী প্রধানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।
এভারকেয়ার হাসপাতালের প্রধান ফটক কাঁটাতারের ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে এবং পুরো হাসপাতাল এলাকা বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে। হাসপাতালের আশপাশে এসএসএফ, বিজিবি ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছে।
পড়ুন: দেশের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন তারেক রহমান?
আর/


