বান্দরবানের থানচি উপজেলার তিন্দু ইউনিয়নে ২৯ বছর বয়সী এক খিয়াং নারীকে ‘ধর্ষণের পর হত্যার’ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে রাঙামাটিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ মে) বিকেল পৌনে ৪টার জেলা শিল্পকলা একাডেমির সামনে ‘বিক্ষুব্ধ ছাত্র সমাজের’ ব্যানারে ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থী সুজন চাকমার সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন- সচেতন নাগরিক কমিটি-সনাকের রাঙামাটি জেলা কমিটির সভাপতি বাঞ্ছিতা চাকমা, পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) রাঙামাটি জেলা কমিটির সভাপতি সুমন চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশন রাঙামাটি জেলা কমিটির সহ-সভাপতি কবিতা চাকমা, বাংলাদেশ মারমা স্টুডেন্ট কাউন্সিল (বিএমএসসি) রাঙামাটি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ক্যচিংনু মারমা, শিক্ষার্থী উজাই মারমা, বাবুল মারমাসহ আরও অনেকেই।
মানববন্ধনে সনাক রাঙামাটি জেলা কমিটির সভাপতি ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য বাঞ্ছিতা চাকমা বলেন, “খিয়াং গ্রামের একজন নারী যার তিনটি সন্তান; সে প্রতিদিনের মতো সকালবেলা জুমে কাজ করতে গিয়েছিল। যেখানে তাকে এক স্থান থেকে অন্যস্থানে টেনে-হিঁছড়ে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হলো। বিকেলের দিকে তার উলঙ্গ মরদেহ পাওয়া গেল। তার শরীরে আঘাত, মাথায় আঘাত। ২৯ বছর বয়সী এই খিয়াং মায়ের ছোট্ট শিশু যার বয়স আট মাস; সে এখনো জানে না তার মা আর ফিরবে না। ধর্ষক যারা তাদের যদি সঠিক বিচার না হয় তাহলে তো এরকমই ঘটনা ভবিষ্যতে আমরা আরও দেখতে থাকব।”
শিক্ষাবিদ বাঞ্ছিতা চাকমা আরও বলেন, “আমাদের আদিবাসী নারীরা ঘরে-বাহিরে, জুমে-জমিতে গিয়েও কাজ করে। তারা কাজের জায়গায় গিয়েও যদি নিরাপদ না হয় তাহলে তারা কোথায় যাবে? আমাদের প্রশ্ন এটা, নারী দেখলেই কেন কিছু নরাধমের ধর্ষণের ইচ্ছা জাগে। ধর্ষণের ঘটনাগুলো যুগ-যুগ ধরে ঘটে যাচ্ছে। পূর্বের ধর্ষণের ঘটনাগুলোর বিচার না হওয়ায় দিন-দিন ঘটেই যাচ্ছে। আমি রাষ্ট্রের কাছে আবেদন করব, যে ধর্ষণের ঘটনাগুলো ঘটে গেছে, সব ঘটনার যেন বিচার হয়।”
এসময় অন্য বক্তারা বলেন, প্রশাসন অনেক সময় ধর্ষণের ঘটনাগুলোকে নানাভাবে সমর্থন করে এবং ধর্ষকদের বিচার না হওয়া, বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলমান থাকার কারণেই বারবার ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। এসময় মানববন্ধন থেকে বক্তারা অবিলম্বে খিয়াং নারীকে ধর্ষণের পর হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
প্রসঙ্গত, সোমবার (৫ মে) বান্দরবানের থানচি উপজেলার তিন্দু ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মংখয় পাড়ার পার্শ্ববর্তী পাহাড়ি জঙ্গল থেকে এক খিয়াং নারীর লাশটি উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়রা বলছেন, উদ্ধার করা মরদেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার চোখ উপড়ে ফেলা হয়েছে। ঘটনার আলামত দেখে মনে হয়েছে, ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়।
এদিকে, থানচিতে খিয়াং নারীকে ‘ধর্ষণের পর হত্যার’ ঘটনার বিচার দাবিতে মঙ্গলবার সকালে পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায় মানববন্ধন-প্রতিবাদ সমাবেশের পর বিকেলে রাঙামাটিতেও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হলো। সেখানে বান্দরবানের বম জাতিগোষ্ঠীর যে সকল নিরীহ মানুষ গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে অন্তরীণ আছেন; তাদের মুক্তির দাবি উঠেছে ফোস্টার-প্লেকার্ডে।
পড়ুন: রাঙামাটিতে ৫ দিনব্যাপী পৌর কর মেলা শুরু
দেখুন: বান্দরবান-রাঙ্গামাটিতে অভিযান: ৭ জ*ঙ্গিসহ গ্রেপ্তার ১০
এস


