০১/০৩/২০২৬, ১৬:৩৪ অপরাহ্ণ
34.4 C
Dhaka
০১/০৩/২০২৬, ১৬:৩৪ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

খুলনায় বাড়ির সামনে যুবদল নেতাকে গুলি ও পায়ের রগ কেটে হত্যা

খুলনা মহানগরের দৌলতপুর থানা যুবদলের সাবেক নেতা মোল্লা মাহবুবুর রহমানকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে দৌলতপুর থানার পশ্চিম মহেশ্বরপাশার তার নিজ বাড়ির সামনে তাকে গুলি করা হয়। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে তাকে কুপিয়ে পায়ের রগ কেটে দেয় দুর্বৃত্তরা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দৌলতপুর থানার ওসি মীর আতাহার আলী।

বিজ্ঞাপন

খোজঁ নিয়ে জানা যায়, ৫ আগস্টের পর এলাকায় বেপরোয়া হয়ে ওঠেন মাহাবুব। মাদক বিক্রি নিয়ে এলাকার অন্য একটি গ্ৰুপের সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল। এর জেরে আগেও কয়েকবার মাহাবুবের ওপর হামলা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শুক্রবার দুপুরে বাড়ির সামনে নিজের প্রাইভেটকার পরিষ্কার করছিলেন মাহবুব। এ সময় মোটরসাইকেলে করে আসা তিন ব্যক্তি গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। মাহবুব গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে যান। এ সময় দুর্বৃত্তরা মৃত্যু নিশ্চিত করতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে পায়ের রগ কেটে দেয়।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) ছাত্ররাজনীতি বন্ধের বিষয় ঘিরে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনায় শতাধিক মানুষ আহত হয়। ওই সংঘর্ষের সময় রামদা হাতে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় যুবদল নেতা মাহবুবুর রহমানের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরের দিন মাহবুবুরকে বহিষ্কার করে যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি।
দৌলতপুর থানার ওসি মীর আতাহার আলী জানান, মাহাবুকের বিরুদ্ধে মাদকসহ ৮টি মামলা রয়েছে। মাদক বিক্রি নিয়ে প্রতিপক্ষ গ্ৰুপের সঙ্গে মাহাবুবের দ্বন্দ্ব চলছিল। এর জেরে হামলা কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে ৭টি গুলি খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্বৃত্তদের গ্ৰেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে।

এদিকে খুলনার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতিতে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে খুলনা বিএনপি নেতৃবৃন্দ বলেছেন- খুন, অস্ত্রের মহড়া, চুরি, ডাকাতি ও লুটপাটের মতো ঘটনা খুলনায় নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাড়িয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও ঘটছে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, গোলাগুলি ও খুনসহ সন্ত্রাসী ঘটনা। সর্বশেষ দৌলতপুরে সাবেক যুবদল নেতা মাহবুবুর রহমানসহ গত ১০মাসে মহানগরীতে ২৭টি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। আর এসকল ঘটনায় শঙ্কিত হয়ে পড়েছে নগরবাসি। তারা বলেন, মহানগরীর আইন-শৃঙ্খলা অবনতির দায়ভার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারীরা কোনভাবেই এড়াতে পারেনা।

শুক্রবার (১১জুলাই) রাতে বিএনপির মিডিয়া সেল প্রেরিত খবর বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বিগত ০৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও খুলনার পুলিশ এখনো পুরোপুরি সক্রিয় হয়নি। আর এ সুযোগটিই কাজে লাগাচ্ছে সন্ত্রাসীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে প্রধান উপদেষ্টা ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষন করে বিএনপি নেতৃবৃন্দ। বিবৃতিদাতারা হলেন খুলনা মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা, জেলা আহবায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, মহানগর সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন, জেলার সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক এড. মোমরেজুল ইসলাম, মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক যথাক্রমে শেখ সাদী, মাসুদ পারভেজ বাবু, চৌধুরী হাসানুর রশিদ মিরাজ প্রমুখ।

খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) উপকমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, মোটরসাইকেলে আসা তিনজনের হাতেই আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। তাঁরা মাহবুবুর রহমানের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি করেন। আমরা ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি গুলির খোসা পেয়েছি। তাঁর মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে গুলি লাগে। এরপর মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য রগও কেটে দেওয়া হয়েছে।
তাজুল ইসলাম আরও বলেন, এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে মনে করছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন, এমন সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের নাম আমরা পেয়েছি। আমরা যাচাই–বাছাই করছি।

পড়ুন : খুলনায় ছাত্রলীগ কর্মীকে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন