ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে খুলনা বিভাগ থেকে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন চারজন। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন তারা। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাদের শপথ পাঠ করান।
খুলনা বিভাগের চার জন হলেন, নিতাই রায় চৌধুরী (সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী) ও মো. আসাদুজ্জামান (আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী) এবং অনিন্দ্য ইসলাম অমিত (বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী) ও শেখ ফরিদুল ইসলাম (পরিবেশ ও বন প্রতিমন্ত্রী)।
নিতাই রায় চৌধুরী : মাগুরা-২ (শালিখা, মহম্মদপুর ও সদরের আংশিক) আসনে জামায়াত প্রার্থীর সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসেন বিএনপির প্রার্থী নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৪৬ হাজার ৬৯৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত মনোনীত মুশতারশেদ বিল্লাহ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পান ১ লাখ ১৪ হাজার ৯৯৯ ভোট। নিতাই রায় চৌধুরী এর আগেও মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। চতুর্থ জাতীয় সংসদে তিনি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। এবার তিনি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পেলেন।
আসাদুজ্জামান : ঝিনাইদহ-১ আসন থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর মন্ত্রীর দায়িত্ব পেলেন আসাদুজ্জামান। ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার বারইপাড়া গ্রামের প্রয়াত স্কুল শিক্ষক বাবার ছয় সন্তানের মধ্যে মেঝো তিনি। দুই কন্যা সন্তানের জনক আসাদুজ্জামান। তিনি ১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হন। সেখান থেকে তিনি এলএলবি ও এলএলএম ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। ১৯৯৫ সালে তিনি বার কাউন্সিলের আইনজীবী হিসেবে নথিভুক্ত হন। ১৯৯৬ সালে তিনি হাইকোর্ট ডিভিশনে আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করেন। এরপর ২০০৫ সালে আপিলেট ডিভিশনে নিয়োগ পান। অ্যাডভোকেট আসাদ আইন পেশায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট দেশের ১৭ তম অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান। সে সময় বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়ন, মামলা জট কমানো, আইনের শাসন শক্তিশালী করা এবং নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় তার প্রস্তাবগুলো ব্যাপক গুরুত্ব পায়। এসব অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে তাকে বর্তমান সরকারের নবগঠিত মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেলেন তিনি।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত : ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে যশোর-৩ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি মোট ২ লাখ ১ হাজার ৩৩৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. আব্দুল কাদের পেয়েছেন ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৬৩ ভোট। এবার তিনি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন।
অনিন্দ্য ইসলাম ১৯৭৫ সালের ২৪ আগস্ট যশোরের ঘোপ জেল রোডে পিতা মরহুম তরিকুল ইসলামের বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী তারিকুল ইসলামের ছেলে। অনিন্দ্য ইসলাম যশোর জেলা বিএনপির সক্রিয় সদস্য এবং কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
অনিন্দ্য ইসলাম ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ থেকে ১৯৯১ সালে এসএসসি এবং ১৯৯৩ সালে এইচএসসি পাস করেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাণ রসায়ন ও আণবিক জীববিজ্ঞানে ১৯৯৬ সালে বিএসসি অনার্স এবং ১৯৯৭ সালে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০২ সালে তিনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন তিনি টিভি বিতর্ক প্রতিযোগিতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফজলুল হক হলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। অনিন্দ্য ইসলাম ল্যাবস্কান মেডিকেল সার্ভিসেস লিমিটেড, লোকসমাজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি যশোর মেডিসিন ব্যাংক, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, যশোর ইনস্টিটিউট, বাংলা একাডেমি, যশোর প্রেস ক্লাব, যশোর চেম্বার অব কমার্স, যশোর ক্লাব, ঝিনাইদহ এক্স ক্যাডেট অ্যাসোসিয়েশন, গ্রাজুয়েট বায়োকেমিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ বায়োকেমিক্যাল সোসাইটির আজীবন সদস্য। এছাড়া তিনি বেশ কিছু সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত।
শেখ ফরিদুল ইসলাম: বাগেরহাট -৩ (মোংলা ও রামপাল) আসন থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই চমক দেখালেন লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ১ লাখ দুই হাজার ১৯৩ ভোট পেয়ে বিশাল ব্যবধানে জয়ী হন তিনি। এলাকায় তিনি বিনামূল্যে কয়েক লাখ মানুষের চোখের চিকিৎসাসহ অসহায় মানুষকে সহায়তা করে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছেন।
পড়ুন- নোয়াখালী আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ৯ জন


