১৪/০১/২০২৬, ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ
17 C
Dhaka
১৪/০১/২০২৬, ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

খুলনা মহানগরে চলতি বছরে ৩৬ হত্যাকান্ড

খুলনা মহানগরে চলতি বছরে ৩৬টি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। একের পর এক খুনের ঘটনায় নগরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে। সম্প্রতি একদিনে চার খুন, আদালত চত্বরে প্রকাশ্যে জোড়া হত্যা এবং সর্বশেষ সোনাডাঙ্গায় এনসিপির শ্রমিক নেতাকে গুলির ঘটনায় শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

অপরাধীদের বেপরোয়া তৎপরতা ও একাধিক হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থতায় নগরবাসীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এদিকে পুলিশ বলছে, খুলনায় একাধিক অপরাধী গোষ্ঠীর আধিপত্যের দ্বন্দ ও শীর্ষ চরমপন্থীদের মুক্তির পর বাড়তি তৎপরতাই চলতি বছরের হত্যাকান্ড বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) তথ্যমতে, জানুয়ারি থেকে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩৬টি হত্যা মামলার মধ্যে ২৩টির রহস্য উদঘাটন হয়েছে। তবে ১৩টি মামলার রহস্য এখনও উদঘাটন হয়নি, যা মোট হত্যাকান্ডের প্রায় ৩৬ শতাংশ।


পুলিশ জানায়, হত্যাকান্ডের পেছনে ১৪টি কারণ শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে মাদক সংক্রান্ত আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে বেশি ১৩টি হত্যাকান্ড ঘটে। এছাড়া পারিবারিক কলহে ছয়টি, ব্যবসায়িক লেনদেন ও প্রেমঘটিত বিরোধে একাধিক হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। থানাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি হত্যা মামলা হয়েছে সদর থানায় ১০টি, এরপর সোনাডাঙ্গা থানায় ৯টি ও লবণচরা থানায় ৫টি। মাসভিত্তিক হিসাবে মে, আগস্ট, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে হত্যাকান্ডের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি।


চলতি বছরের আলোচিত ঘটনাগুলোর মধ্যে রয়েছে সাংবাদিক ইমদাদুল হক মিলন হত্যা, আদালত চত্বরে শীর্ষ অপরাধী হাসিব হাওলাদার ও ফজলে রাব্বি রাজনকে প্রকাশ্যে হত্যা এবং সোনাডাঙ্গায় এনসিপি শ্রমিক নেতাকে গুলি করার ঘটনা।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, খুলনার আন্ডারওয়ার্ল্ড বর্তমানে একাধিক গ্যাংয়ে বিভক্ত। পলাশ গ্রুপ, গ্রেনেড বাবু গ্রুপসহ সাতটি অপরাধী চক্র সক্রিয় রয়েছে। সম্প্রতি দুই শীর্ষ চরমপন্থীর জামিনে মুক্তির পর অপরাধ পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়েছে বলে মনে করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, প্রতিদ্বন্দ্বী গ্যাংগুলোর আধিপত্য বিস্তারের লড়াই আরও সহিংস রূপ নিতে পারে। দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় না আনতে পারলে নগরীর নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কেএমপির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, আদালত এলাকায় জোড়া হত্যাকান্ডের ঘটনার সময় আদালতে কর্তব্যরত পুলিশের কাছে কেবল লাঠি ছিল। কারও হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল না। যার ফলে হস্তক্ষেপ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। অন্যদিকে অপরাধীদের কাছে ছিল অত্যাধুনিক অস্ত্র। কুখ্যাত গ্যাং লিডার ‘রনি চৌধুরী বাবু ওরফে গ্রেনেড বাবু গ্রুপ’ এই জোড়া খুনের সঙ্গে জড়িত। খুলনা কারাগারে বাবুর সমর্থকদের সঙ্গে পলাশ গ্রুপের মধ্যে সম্প্রতি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার সময় নিহতরা কারাগারে ছিলেন এবং সংঘর্ষে অংশ নেন। তার প্রতিশোধ হিসেবে হত্যাকান্ড ঘটেছে।


এসব বিষয়ে জানতে চাইলে র‌্যাব-৬-এর সিও লে. কর্নেল নিস্তার আহমেদ বলেন, ‘আদালত এলাকায় জোড়া হত্যা মিশনে সাত সদস্যের টিম ছিল। গ্রেফতারকৃত এজাজুল হোসেন ছিল মূল আক্রমণকারী। ঘটনাটি সংগঠিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে র‌্যাব ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে। বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ ও মোবাইলে ধারণকৃত ভিডিও সংগ্রহ করা হয়। গত ১৭ ডিসেম্বর হত্যায় সরাসরি সম্পৃক্ত এজাজুলকে গ্রেফতার করা হয়। হত্যায় জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকারোক্তিও দিয়েছে সে। মূলত খুলনা মহানগরীতে দুটি সন্ত্রাসী দলের (পলাশ ও গ্রেনেড বাবু) মাঝে কোন্দল, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঘটনাটি ঘটেছে।


খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া) ত ম রোকনুজ্জামান জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত নগরীতে ৩৬টি হত্যাকান্ড ঘটেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে সদর ও সোনাডাঙ্গা থানায়। কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হলেও বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে। তিনি বলেন, খুলনার অপরাধ জগৎ বর্তমানে একাধিক গ্যাংয়ে বিভক্ত। পলাশ, গ্রেনেড বাবু ও নূর আজিম গ্রুপসহ নাসিম-আরমানের নেতৃত্বাধীন চরমপন্থীরা সক্রিয় রয়েছে। বিশেষ করে নাসিম ও আরমান মুক্তির পর তাদের কার্যক্রম বেড়েছে।

পড়ুন- আবারও পাল্টি নিলেন জাসদ নেতা খাদেমুল ইসলাম খুদি

দেখুন- স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে যেসব সিদ্ধান্ত জানালো বিএনপি

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন