গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি বাড়িতে যৌথ বাহিনীর অভিযানে অস্ত্র ও সরঞ্জামসহ সাতজনকে আটক করার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগ তুলেছে সেনাবাহিনী।
শুক্রবার (৭ নভেম্বর) সকালে গাজীপুর মহানগরের ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের অস্থায়ী সেনা ক্যাম্পে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিং এ এই অভিযোগ করেন ১৪ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল লুৎফর রহমান।
লে. কর্নেল লুৎফর রহমান জানান, গত ৬ নভেম্বর ভোর রাতে গাজীপুর আর্মি ক্যাম্পের সার্বিক তত্ত্বাবধানে পুলিশ ও র্যাবের প্রত্যক্ষ সহায়তায় শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নে একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এবং এলাকাবাসীর সহায়তায় গাজীপুর জেলার চিহ্নিত সন্ত্রাসী, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী তথা শ্রীপুর এলাকার ত্রাস, অবৈধ বালু উত্তোলনকারী এবং ডাকাত দলের সর্দার এনামুল হক মোল্লাকে তার নিজ বাসার পানির ট্যাংক এর ভিতর থেকে গ্রেফতার করা হয়। একই সাথে তার আরও ৬ জন সহযোগীকেও যৌথ বাহিনী কর্তৃক গ্রেফতার করা হয়।
তিনি বলেন, অভিযান চলাকালীন তল্লাশীর সময়ে তার কাছ থেকে ২ টি বিদেশী পিস্তল, ৩ টি ম্যাগজিন, ৪ রাউন্ড গুলি, ২ টি ইলেক্ট্রিক শক মেশিন, ৪ টি ওয়াকিটকি সেট এবং ২ টি লাইসেন্স বিহীন মোটরসাইকেলসহ বেশকিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এনামুল হক মোল্লার বিরুদ্ধে শ্রীপুর থানায় বেশ কয়েকটি ডাকাতি এবং অস্ত্র মামলা চলমান রয়েছে এবং কিছু কিছু মামলায় তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্টও জারী করা হয়েছে।
অভিযান শেষে উদ্ধারকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সরঞ্জামসহ সাতজনকে শ্রীপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়।
ব্রিফিংয়ে সেনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল লুৎফর রহমান বলেন, অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় একটি মহল এনামুল হক মোল্লার গ্রেফতারের বিষয়টিকে রাজনৈতিক রূপ দেয়াসহ উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ভিন্ন খাতে অপপ্রচার করার চেষ্টা করছে।
এসময় তিনি আরো বলেন, সেনাবাহিনী কোন ব্যক্তি বা দলের পক্ষে বা বিপক্ষে নয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সব সময় ন্যায়ের পক্ষে এবং অন্যায়ের বিপক্ষে, সেনাবাহিনী দেশের পক্ষে। যারা এ ব্যাপারে অপপ্রচার করছে এবং অপপ্রচারের প্রশ্রয় দিচ্ছে, আমরা মনে করি এদেরও কোন না কোন ভাবে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। সে বিষয়টিকেও আমরা গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছি এবং প্রমাণ স্বাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
সেনা কর্মকর্তা আরো জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ৫ নভেম্বর রাত দেড়টা থেকে ভোর সোয়া পাঁচটা পর্যন্ত এনামুল হক মোল্লার বরামা গ্রামের নিজ বাড়িতে অভিযান চলে। অভিযানের নেতৃত্ব দেন মেজর খন্দকার মহিউদ্দিন আলমগীর (৪৬ ডিভ লোকেটিং, গাজীপুর সেনা ক্যাম্প)। অভিযানের সময় এনামুল হক মোল্লা বাড়ির ছাদের পানির ট্যাংকের ভেতর লুকিয়ে ছিলেন—তল্লাশির সময় তাকে সেখান থেকে বের করে আটক করা হয়।
তিনি বলেন, অভিযানের সময় আপনারা (সাংবাদিকরা) অনেকেই এই অপারেশনের প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন এবং সকলেই অবগত আছেন যে, কিছু সার্থান্বেষী মহল তার বাসা থেকে ব্যক্তিগত কিছু সরঞ্জামাদি হারানো গিয়েছে বলে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছাড়ানোর চেষ্টা করছে। এরুপ মিথ্যা অপবাদ ছড়ানোর সাথেও যারা সংশ্লিষ্ট তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এলাকাবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে।ব্রিফিংয়ে সেনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল লুৎফর রহমান বলেন, যৌথবাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করার জন্য পাশাপাশি।এলাকাবাসীকে এরূপ সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে যারা যাবা জড়িত রয়েছে তাদের ব্যাপারেও তথ্য দিয়ে সহায়তা করার জন্য আহবান জানান। তারা যেখানেই লুকিয়ে থাকুন একইভাবে তাদেরকেও খুজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।
গাজীপুর জেলার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখব এবং জনগণের সহায়তায় অপরাধীদের আইনের আওতায় আনব। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক পূর্বের মতো সন্ত্রাস বিরোধী অভিযান সামনের দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে বলেও জানান এই সেনা কর্মকর্তা।
পড়ুন: গণভোট কী? বাংলাদেশসহ ইতিহাসে আলোচিত যত গণভোট
আর/


