গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদের সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ বলেন, গণঅধিকার পরিষদ চাঁদাবাজ, দখলবাজ মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে কাজ করে যাচ্ছে। আওয়ামীলীগ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দেশে নৃশংস হত্যাকান্ড চালিয়েছিলো। শুধু জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নয় বিগত ১৫ বছরে দেশে গুম খুন করেছিলো আওয়ামীলীগ। প্রশাসনকে দলীয় ভাবে ব্যবহার করে একদলীয় শাসন কায়েম করতে চেয়েছিলো। জুলাই আন্দোলনেও মানুষকে হত্যা করে অবৈধ ভাবে ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছিলো। ফলে জনগনের আন্দোলনের মুখে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছিলো ফ্যাসিস্ট হাসিনা। ১৬ আগস্ট শনিবার বিকেলে শেরপুর শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে “২০১৮-২০২৪” কোটা সংস্কার থেকে রাষ্ট্র সংস্কার শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবু হানিফ আরও বলেন, আজকের এই শিরোনামটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ১৮ সালে কোটা বৈষম্যের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছিলাম। সেই কোটা বাতিল হয়েছিল। ২৪ সালে সেই কোটা ফেরত আনার চেষ্টা করলে আবার আন্দোলন শুরু করি। সেই আন্দোলনে হাসিনার পতন নিশ্চিত করে। আমরা গত ৭ বছর হাসিনার ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলো।
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর শেরপুর জেলার আগের চিত্রের পরিবর্তন হয় নাই। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরও শেরপুরের সামীন্ত এলাকায় অবৈধ চুরি চালানের ব্যবসা বন্ধ হয়নি। শেরপুরের গারো পাহাড়ে অবৈধ পাথর এবং বালু উত্তোলন করছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। সেখানে দেখা গেছে সব দলের ঐক্য হয়েছে। মিল মিশে সবাই ভাগবাটোয়ারা করছে। প্রশাসন কিছুই বলে না। এখানে আওয়ামিলীগ রাজত্ব করতো এখন অন্য একটা দল রাজত্ব করে।
আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি মনজুর মোরশেদ মামুন বলেন, “২০১৮ কোটা সংস্কার আন্দোলনই এদেশের তরুণদের উজ্জীবিত করে। যখন আওয়ামী লীগের পতনের আশা বড় বড় রাজনৈতিক দল ও নেতারা ছেড়ে দিয়েছিলো, তখন গণঅধিকার পরিষদ আওয়ামী লীগ ও হাসিনার লেলিয়ে দেওয়া পুলিশের রক্তচক্ষু ও বুলেট উপেক্ষা করে হাসিনা পতন আন্দোলনের দাবানল জ্বালান। তারই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচার হাসিনার পতন ঘটে।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন গণঅধিকার পরিষদ শেরপুর জেলা শাখার আহবায়ক আরিফ আহমেদ এবং সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সদস্য সচিব শামসুজ্জামান শিবলু। এসময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, গণঅধিকার পরিষদের ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আজহারুল ইসলাম, জেলা গণঅধিকার পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক শহিদুল ইসলাম সোহাগ, কাজী হায়াৎ, মনিরুজ্জামান মনির, এডভোকেট এনামুল, ছাত্র অধিকার পরিষদের সাবেক সহ সভাপতি দূর্জয় হাসান, যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি কামরুজ্জামান সরকার, শ্রমিক অধিকার পরিষদের সভাপতি ওয়াজকুরুনি প্রমুখ।
পড়ুন:শেরপুর র্যাবের অভিযানে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি বাবুল গ্রেফতার


