মুসলিমদের মৃত্যুর পরে আসল ঘর হলো কবর। আর সেই কবরে মাটি ভরাট করার জন্য সরকারিভাবে একটি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।সেই বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ করে নিয়েছে সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্যে।আর এসকল কাজ করেছেন মাদারীপুর সদর উপজেলা শিরখাড়া ইউনিয়ন ১,২,৩ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী ইউপি মেম্বার আপিয়া আক্তার। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা ও সচেতন মহল।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও স্থানীয়ভাবে জানা যায়,সদর উপজেলার শিরখাড়া ইউনিয়নের গোসাইদিয়া ছালাম হাওলাদারের বাড়ি সংলগ্ন একটি গণকবরে মাটি ভরাট করার জন্য গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা) প্রকল্প আওতায় ২০২৪- ২৫ অর্থবছরে প্রায় আড়াই লাখ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। মাটি ভরাট না করেই পুরো টাকা উত্তোলন করা হয়েছে গেল দুমাস আগে। সরেজমিনে গিয়ে ওই কবর স্থানে অল্প মাটি ভরাটের দৃশ্যও চোখে পড়েনি।
এদিকে স্থানীয়রা জানান, আমরা শুনেছি এই কবরস্থানটি মাটি ভরাট করা হবে। কিন্তু সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল মেম্বার আপিয়াকে। সেই কাজ না করে শুনছি টাকা আত্মসাৎ করে নিয়েছে। সে একজন মেম্বার হয়ে, একজন মুসলিম হয়ে কিভাবে কবরের মাটি টাকা আত্মসাৎ করে। এই কবরেই তো তারও যেতে হবে। এ সকল ব্যক্তির আমরা কঠিন বিচার চাই।
স্থানীয় মুরুব্বী সোলেমান চৌকিদার জানান, যেকোনো সময় আল্লাহর ডাকে চলে যেতে পারি। এই কবরটিকে মাটির মাটি ভরাট করার কথা ছিল। কবরের পাশে মাটি ভরাট না করেই ভরাটের টাকা তার কাছে রেখেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বেশ কয়েকজন জানান, ৫ই আগস্ট এর পর এই মেম্বার নিজ এলাকায় থাকেন না। থাকেন ফরিদপুরে বাসা ভাড়া করে। তাকে আমরা কোন কাজে-কর্ম পাই না।কবরস্থান ভরাট করার জন্য সরকার টাকা দিয়েছে। কিন্তু সে কবরস্থানের মাটি ভরাট না করেই টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছে।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক ইউপি সদস্যরা জানান, সেই এলাকায় সন্ত্রাস বাহিনী পালন করে তার ভয় কেউ কথা বলতে পারেনা। কথা বললেই সে উল্টা তাদের নামে মিথ্যা মামলা দিতে আসে।
এদিকে ইউপি সদস্য আপিয়া আক্তার টাকা আত্মসাধের কথা স্বীকার করে বলেন,টাকা উত্তোলন করে আমি আমার ব্যাংকে রেখেছি। এখানে বালু দিলে থাকবে না তাই মাটি দিতে হবে এ কারণে কয়দিন পরে কাজ শুরু করব। এদিকে এ বিষয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টাকা উত্তোলনের বিষয়ে জানে কিনা এ জবাবে তিনি বলেন,সবাই জানে টাকা উত্তোলনের বিষয়।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, টাকা উত্তোলনের বিষয়ে আমাদের জানা নেই। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখব।
এ বিষয়ে জানার জন্য মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াদিয়া শাবাব এর মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করে কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।
পড়ুন: ইউক্রেনে সেনা পাঠাতে প্রস্তুত ২৬ দেশ: ম্যাক্রোঁ
দেখুন: আবারো ইসরায়েলের তাণ্ডবে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে উত্তেজনা
ইম/


