বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, পৃথিবীতে যদি স্বৈরাচারের একটি কমিটি গঠন করা হয়, তাহলে শেখ হাসিনা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তার সভাপতি হতেন।
বুধবার (৬ আগস্ট) বিকেলে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে লালমনিরহাটে এমটি হোসেন ইনস্টিটিউট মাঠে আয়োজিত বিজয় র্যালিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দুলু বলেন, আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে, তখন দেশের মানুষের ওপর দুঃশাসন নেমে আসে। অতীতেও আমরা দেখেছি হিটলার, চেঙ্গিস খান, নমরুদের মতো দানবদের পতন হয়েছে। আজ বাংলাদেশে নির্মমতার ইতিহাস সৃষ্টি করেছে আওয়ামী লীগ সরকার।
অনুষ্ঠান শুরু হয় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে। পরে মাঠ থেকে একটি বিজয় র্যালি বের হয়ে প্রধান সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ করে হামারবাড়ি বিএনপি কার্যালয়ে গিয়ে সমাবেশে পরিণত হয়। এ সময় আগস্ট অভ্যুত্থানে নিহত শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
দুলু বলেন, রংপুরের গর্ব শহীদ আবু সাঈদ তত্ত্ব বুলেটের সামনে বুক চিরে দাঁড়িয়েছেন গণতন্ত্রের জন্য। আজকের শিশু-কিশোর, এমনকি সোনামণিরাও এই আন্দোলনে আত্মত্যাগ করেছে। শেখ হাসিনা সরকারের নির্মম দমন-পীড়নে অনেকের জীবন ঝরে গেছে, পরিবারগুলো নিঃস্ব হয়েছে। এই অন্যায়ের বিচার আল্লাহ করছেন।
তিনি আরও বলেন, যারা দেশের জন্য জীবন দিয়েছে, তারা শহীদ, তারা বীর। আর যারা জনগণের কণ্ঠরোধ করেছে, তারা দানব। আওয়ামী লীগ জঙ্গিবাদের ভয় দেখিয়ে আন্দোলন দমন করতে চায়, অথচ গণতন্ত্রের জন্য জীবন বাজি রেখে আন্দোলন করেছে বিএনপির নেতাকর্মীরা।
বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির দীর্ঘ আন্দোলনের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, গত ১৭ বছর ধরে আমরা রাজপথে আছি। আমাদের কেউ চোখ হারিয়েছে, কেউ সন্তান, কেউ পঙ্গুত্ব বরণ করেছে, তবুও গণতন্ত্রের আন্দোলন থেকে একচুলও সরিনি। দেশের মানুষ বিএনপিকে ভালোবাসে, জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ওপর আস্থা রাখে।
আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাদের পরিবারের প্রতিটি সদস্য দুর্নীতিতে জড়িত। বাংলাদেশের মানুষ এখন সেই দুর্গন্ধ সহ্য করতে পারছে না। তাই বিএনপি ছাড়া আর কোনো রাজনৈতিক শক্তির ওপর আস্থা রাখতে পারছে না।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক একেএম মমিনুল হক, পৌর বিএনপির সভাপতি আফজাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম, লালমনিরহাট জেলা মহিলা দল, যুবদল, ছাত্রদল, ওলামা দলসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
পড়ুন : বিপদসীমার নিচে তিস্তার পানি, লালমনিরহাটে পানিবন্দি ৪ হাজার মানুষ


