শরীয়তপুর গণপূর্ত বিভাগের চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারী জুলহাস পেদার বিরুদ্ধে শরীয়তপুর চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের স্থাপনা অধিগ্রহণের টাকা দ্বিগুন করিয়ে দেয়ার কথা বলে গ্রাহক থেকে কয়েক লাখ টাকার ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে শরীয়তপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী তাজির সরদার। ঘটনাটি ওই এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে অভিযোগকারী তাজির সরদারকে হুমকি ভয়ভিতি দেখিয়ে সমঝোতার চেষ্টা চালাচ্ছে জুলহাস।
গণপূর্ত বিভাগ সুত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর আঞ্চলিক মহাসড়ককে চারলেন সড়কের উন্নতির লক্ষে সরকার জমি অধিগ্রহণ শুরু করে আরো আগেই।তার সাথে অধিগ্রহণের জমিতে বৃক্ষ ও ঘড়বাড়ির দুই গুন ক্ষতিপুরণ দিবে সরকার। ৭ ধারা’র নোটিশ হয়েগেছে অধিকাংশ স্থাপনার। সরকার পরিবর্তন হওয়ার পরে এখনো ৮ ধারার জন্য বরাদ্দ দেয় নি সরকার। কিন্তু শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার চরগাজিপুর এলাকার চিত্র ভিন্ন। এখানে পিয়ন জুলহাস পেদাকে ১০% ঘুষ দিলেই বিল হবে দিগুন এমনটাই প্রচলিত আছে।
অভিযোগ পত্রে উল্লেখিত যে, তাজির সরদারকে স্থাপনার বিল দ্বিগুন করে ৮ লাখ টাকা বাড়িয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ১০% কমিশনের প্রথমে ৬০ হাজার টাকা ঘুষ নেন জুলহাস পেদা। পরে ৩ মাসের মধ্য ৮ ধারা নোটিশ পায়িয়ে দেয়ার কথা।তবে ৯ মাস পেরোলেও ৮ ধারা নোটিশ করাতে পারেনি। বাকি ২০ হাজার টাকা এক্সেনকে দেয়ার কথা বলে ২০ হাজার দাবি করে। পরে অভিযোগকারী ৬০ হাজার টাকা ফেরত চাইলে সে বলে শরীয়তপুর গণপূর্ত অফিসে যান ভাই।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,চরকুমারিয়া ইউনিয়নের চরগাজিপুর এলাকায় অধিকাংশ মানুষ জুলহাস পেদার কাছে সড়কের অধিগ্রহণের স্থাপনার ক্ষতিপূরণের বিল দ্বিগুন করার জন্য অনেকেই ১০% টাকা ঘুষ দিয়েছেন। এ যেমন মুঠোফোনে বিল দ্বিগুন করে সফি পাইকের কাছে ৬ লাখ নেয় ওই পিওন। পরে সাক্ষাতে গণমাধ্যম কর্মীর বিষয় বুঝতে পেরে ঘুষের বিষয়টি এড়িয়ে যান। জানা যায় অভিযোগকারী তাজির সরদারকে জুলহাজ পেদার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। অভিযোগ করার পর থেকেই তাজির সরদারকে হুমকিধামকি দিয়ে আসছে জুলহাস পেদা। এছাড়া জুলহাস পেদা তার বাড়ির সামনে সরকারি খালের উপর নতুনকরে অবৈধভাবে স্থাপন করে সরকারের টাকা তসরুপ করার চেষ্টা করছে।
তাজির সরদার বলেন, সে আমাকে অফার করে বিল দ্বিগুন করবে বলেই ৬০ হাজার প্রথমে নিয়ে কাজ না করেই পরে ২০ হাজার আরোও চায়। বাকি টাকা রাজি না হওয়ায় সে আমার কাজ করে দিবে না। তাই আমি লিখত অভিযোগ দিয়েছি।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক আহ্বায়ক ইমরান আল নাজির বলেন, গণপূর্তের একজন পিয়নের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর ঘুষের অভিযোগ উঠেছে।শুধু সে না ১০% ঘুষের সাথে কোন কর্মকর্তার জড়িত থাকলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।
এবিষয় জুলহাস পেদা বলেন, আমি ত ইঞ্জিনিয়ার না, আমি একজন পিয়ন। আমি কিভাবে বিল দ্বিগুন করে দিব আবার ঘুষ নিব। না আমার এলাকার শত্রুপক্ষ এগুলা করাচ্ছে। আমি নির্দোশ।
শরীয়তপুর জেলা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শারমিন আক্তার বলেন, জুলহাস পেদার বিরুদ্ধে তাজির সরদার নামে এক ব্যাক্তি লিখত অভিযোগ দিয়েছে আমার কাছে। জুলহাস পেদাকে কারনদর্শানো হবে। পরবর্তী অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে প্রকৃত অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পড়ুন : শরীয়তপুর চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ


