ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, মৌলভীবাজারে বার্তা দিতে এসেছি, ঐতিহাসিক বার্তা। আগামী মাসের ১২ তারিখ ভোট এবং গণভোট, দুটো একসাথেই হবে। দুইটা ব্যালট পেপার থাকবে, একটা সাদা যেখানে আপনার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন, আরেকটা গোলাপি কালার ওখানে হ্যাঁ এবং না থাকবে, জুলাই সনদের পক্ষে যারা তারা হ্যাঁ ভোটে, ভোট দেবেন আর যারা চান না তারা না দিবেন। না দেওয়ারও স্কোপ আছে, এটা তো গণভোট। গনভোট দেশে বহুবার হয়েছে। ১৯৪৭ সনের ৬ এবং ৭ জুলাই এই মৌলভীবাজারেও গণভোট হয়েছে, তখন ক্ষমতায় ছিল ব্রিটিশ। সিলেটের জনগণ আসামের সাথে থাকবে নাকি পাকিস্তানের সাথে থাকবে এ নিয়ে গণভোট হয় এই মৌলভীবাজারে। ৫৬% মানুষ বলেছে হ্যাঁ আমরা পাকিস্তানের সাথে থাকব। ৪৩% মানুষ বলেছে আমরা আসামের সাথে থাকব। আশ্চর্যের কথা হচ্ছে, সেদিন মৌলভীবাজারের মানুষ আসামের সাথে থাকতে চাইলেও গণভোটে পাকিস্তানের পক্ষে হ্যাঁ থাকায় সেসময় পাকিস্তানের ভিতরে চলে আসে মৌলভীবাজারের মানুষ। ১৯৪৭ সালে আমরা পাকিস্তানে আসি, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা পাই বাংলাদেশ। আমাদের মনে রাখতে হবে সেদিন যদি সিলেট আসামের অধীনে থাকত, তারা আজকে স্বাধীন বাংলাদেশে থাকতে পারতো না। তাঁরা ভারতের অংশ হত। এটি গণভোটে সম্ভব হয়েছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে মৌলভীবাজার শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে গণভোটের কার্যক্রম বিষয়ে জনসচেতনতা শীর্ষক মতবিনিময় সভা ও ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, হ্যাঁ ভোট দিলে ইসলাম থাকবে না, আল্লাহ থাকবে না, এই সমস্ত কথা মিথ্যা প্রচারণা মাত্র, এ কথাগুলো সমাজে বিভ্রান্তি ছড়ায়। গণভোটে ড. ইউনূস সরকারের কোন লাভ নেই, এমন না যে আমরা ক্ষমতায় চিরস্থায়ী থাকতে গণভোট করছি, এটা সংবিধানে সংযুক্ত থাকবে। তিনি বলেন, আমাদের দেশটা চলে প্রধানমন্ত্রী শাসিত সরকারে, এখানে রাষ্ট্রপতির কোন ক্ষমতা নেই। আমরা চাচ্ছি রাষ্ট্রক্ষমতায় ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত করতে, কারন দেশের সঙ্কটকালে প্রেসিডেন্টের ভূমিকা মূখ্য হয়ে যায়। এই যে ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট, সরকার যখন চলে গেলো। সরকার নাই, তাহলে দেশ চালাবে কে? এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্টের ভূমিকা লাগে কিন্তু আমাদের দেশে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার ভারসাম্য নাই, সবতো দেখেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারী দল ইচ্ছে করলেই আর সংবিধান পরিবর্তন করতে পারবে না। অতীতে তাই হয়েছে আমরা দেখেছি। সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তনেও এখন গণভোট লাগবে। উচ্চকক্ষের একশ জনের মতামত ছাড়া সংবিধানের একটি অক্ষরও আর পরিবর্তন করা যাবে না। দেশে এই বিরাট পরিবর্তনের জন্যই গণভোট। আগামী দিনের গণভোট – হ্যাঁ এর পক্ষে যদি যায় তাহলে জাতির চেহারা পাল্টে যাবে, বদলে যাবে এদেশের সরকার ব্যবস্থা।
জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল এর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক মো: ফারুক আলম ও জেলা নির্বাচন অফিসার দীপক কুমার রায়। মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত এ সভায় জেলা ও উপজেলার সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, মসজিদের ইমামবৃন্দ ও তাঁদের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

