০২/০৩/২০২৬, ১৬:৩২ অপরাহ্ণ
33 C
Dhaka
০২/০৩/২০২৬, ১৬:৩২ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

রাঙ্গাবালীতে গভীর নিম্নচাপের ঝাপটা  

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপ দুর্বল হয়ে স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার আগেই দুর্বল হলেও গত দুইদিনে তার ঝাপটায় অস্বাভাবিক জোয়ার, বৃষ্টি  আর ঝড়ো বাতাসে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় ক্ষতচিহ্ন  রেখে গেছে। ক্ষতি হয়েছে ঘরবাড়ি, মাছের ঘের, কৃষিজমি ও বেড়িবাঁধের।

বিজ্ঞাপন

মাছের ঘের ও পুকুরেই ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০ কোটি টাকা। মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, উপজেলার ১ হাজার ৩০০টি পুকুর এবং ৪৫০টি মাছের ঘের পানিতে ভেসে গেছে। উপজেলার মৌডুবী ইউনিয়নের আশাবাড়িয়া এলাকার ঘের মালিক লিটু গাজী বলেন, ‘জোয়ারের পানিতে আমার ঘের সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে। কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হলো।’একই এলাকার মিন্টু সরদার জানান, ‘এই চরের প্রায় ৩০টির বেশি ঘের এক রাতেই শেষ। কোটি টাকার ওপর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।’

কৃষি অফিসের তথ্যমতে, ৮ হেক্টর আউশ ধানের বীজতলা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ২৬০ হেক্টর জমির সবজি ক্ষেতও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে বিপাকে পড়েছেন কৃষক পরিবার।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী,  উপজেলার চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নে ৪০০ মিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার মধ্যে ১০০ মিটার সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে। চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চরবেষ্টিন এলাকায় আরও ৩৫ মিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চরআন্ডা এলাকায়ও অনেক  ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তবে তা এখনও নিরূপণাধীন।

ঘরবাড়ির দিক দিয়েও বিপর্যয় ঘটেছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কার্যালয় জানিয়েছে, অন্তত ৬০টি ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুইদিনে দিন-রাতে জোয়ার ও টানা বৃষ্টিতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছিলেন অন্তত ৩৩ হাজার মানুষ। জোয়ারের পানি ভাটায় নামলেও নিচু এলাকায় জমে আছে। কোথাও আবার বৃষ্টির পানি জমেছে। ফলে ঘরবন্দী হয়ে পড়েছেন অসংখ্য পরিবার। চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের মধ্য চালিতাবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা ওমর সানি বলেন, ‘জোয়ারে বাঁধ ভেঙে পুরো এলাকা ডুবে যায়। ভাটায় পানি নামলেও রয়ে গেছে ক্ষতির ছাপ। নদীভাঙনে নিঃস্ব, তার উপর এই জলোচ্ছ্বাস-এখানে জন্মানোটা যে মনেহয় কোন এক  অভিশাপ।’

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হাসান জানান, ‘দুর্গতদের জন্য প্রাথমিকভাবে ১১ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আরও ত্রাণ সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব করে দ্রুত পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করা হবে।’

এনএ/

দেখুন: উপকূলে আছড়ে পড়েছে গভীর নিম্নচাপ, ১৬ জেলায় জলোচ্ছ্বাসের শঙ্কা

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন