ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ -২ আসনে নিরঙ্কুশ বিজয় পেয়েছে বিএনপি প্রার্থী ও ড্যাব নেতা ডা. কেএম বাবর। এলাকার মানুষ তাকে চিনতো গরীবের ডাক্তার হিসেবে। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর সাধারণ মানুষ বলছে, এখন তিনি হয়ে উঠবেন আমাদের গরীবের এমপি হিসেবে। আর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ডা. কেএম বাবর বলছেন, জনগণের প্রতি আমার যে প্রতিশ্রুতি ‘স্বাস্থ্যখাতে আমুল পরিবর্তন’ তা আগামী তিন মাসের মধ্যেই বাস্তবায়নের কাজ করে যাবো।
জানা গেছে, গোপালগঞ্জ -২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ডা. কেএম বাবর আলী ছাত্রজীবনে বরিশাল মেডিকেল কলেজের ছাত্রদল প্যানেলের নির্বাচিত ভিপি ও জিএস ছিলেন। পরবর্তীতে উচ্চ শিক্ষার জন্য বিদেশে পাড়ি জমান। সেখান থেকে ফিরেই সাধারণ মানুষকে স্বল্পমূল্যে ও বিনা টাকায় তিনি ও তার স্ত্রী ডা. রাবেয়া খান চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছেন। যার ফলে একসময় মানুষের কাছে তিনি হয়ে ওঠেন গরিবের ডাক্তার হিসেবে।
২০১৭ সালের দিকে তিনি গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির হাল ধরেন। তখন থেকেই নেতাকর্মী পাশে থেকে নেতৃত্বে দিয়ে আসছিলেন। বিগত সরকারের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে কেন্দ্রীয় বিএনপির ডাকা সবকয়টি আন্দোলন সংগ্রামে গোপালগঞ্জে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে এসেছেন। এরপর ২০১৮ সালের নির্বাচনে প্রাথমিক ভাবে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন। যদিও পরবর্তীতে সেই নির্বাচনে জেলার অন্য একজন বিএনপি নেতা দলের চূড়ান্ত মনোনয়ন পান।
ব্যক্তিজীবনে ডা. বাবর আলী, সৎ, দুর্নীতিমুক্ত, ন্যায় পরায়ণ ও ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন মানুষ। এছাড়াও সহজে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যেতে পারেন।
গোপালগঞ্জ সদরের ২১ টি ইউনিয়ন একটি পৌরসভা ও কাশিয়ানীর ৭ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত গোপালগঞ্জ – আসন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই গোপালগঞ্জ – ২ আসন থেকে মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহন করেন ডা. বাবর । এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দূর্গ খ্যাত গোপালগঞ্জ -২ আসন থেকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। ডা. কেএম বাবর আলী ৪০,০৪৮ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। তার নিকটতমপ্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এইচ খান মঞ্জু ৩৩,০৩৯ ভোট পেয়েছেন।সাধারণ মানুষ বলছে, এখন তিনি হয়ে উঠবেন আমাদের গরীবের এমপি হিসেবে।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার হেলাল উদ্দিন নামে একজন বলেন, আমরা ডা. বাবর কে গরীবের ডাক্তার হিসেবেই চিনতাম। যে কারনে তাকে আমরা সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছি। এখন তিনি আমাদের গরীবের এমপি হয়ে উঠুক আমরা সেটাই চাই। এছাড়াও বিএনপির হাইকমান্ডের কাছে আমাদের একটাই চাওয়া ডা. বাবর কে যেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী দেওয়া হোক।
কাশিয়ানীর নিজামকান্দী ইউনিয়নের মিরাজ মোল্লা বলেন, ডা. বাবর ভাই একজন ক্লিন ইমেজের মানুষ। তিনি আমাদের গরীবের ডাক্তার, এখন তিনি আমাদের গরীবের এমপি। আমরা তাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছি। আমরা চাই তিনি আমাদের হয়ে কাজ করুক। আর তার যে প্রতিশ্রুতি তিনি সেটা বাস্তবায়ন করুক।
গোপালগঞ্জ -২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ডা. কেএম বাবরের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জনগণের প্রতি আমার যে প্রতিশ্রুতি ‘স্বাস্থ্যখাতে আমুল পরিবর্তন’ তা আগামী তিন মাসের মধ্যেই বাস্তবায়নের কাজ করে যাবো। আমি জনগণের সেবক হয়ে থাকতে চাই। আমি ছিলাম গরীবের ডাক্তার। এখন আমি গরীবের এমপি।
পড়ুন:পিরোজপুরে দুর্বৃত্তদের হামলায় বিএনপির আহ্বায়কসহ ২ জন আহত
দেখুন:পিরোজপুরে ভোটারদের মাঝে টাকা বিতরণের অভিযোগ হাতপাখা সমর্থকের বিরুদ্ধে |
ইমি/


