মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ভরাট গ্রামে এক নারীকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন।
রবিবার (২২ মার্চ) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার উত্তর ও দক্ষিণ ভরাট গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছেন।
আহতরা হলেন—দক্ষিণ ভরাট গ্রামের নবাব আলীর ছেলে হাসান আলী (৫০), সফেদ হালসানার ছেলে রহমত আলী (৪৫), মিনারুল ইসলামের স্ত্রী খুশি আরা খাতুন (৩০), মৃত দাউদ মন্ডলের ছেলে মিনারুল হোসেন (৩৮), ভরাট গ্রামের কালু শেখের ছেলে প্রবাসফেরত মিঠুন হোসেন (৩২) এবং উত্তর ভরাট গ্রামের কাবাতুল্লাহর ছেলে ইসমাইল হোসেন (৩০)। তারা বর্তমানে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাংনী উপজেলার সীমান্তবর্তী সহড়াতলা গ্রামের সাহাজুল ইসলামের মেয়ে লাকি খাতুনের সঙ্গে উত্তর ভরাট গ্রামের কালু শেখের ছেলে মিঠন আলীর বিয়ে হয়। তাদের সংসারে তিন বছর বয়সী একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। পরবর্তীতে মিঠন প্রবাসে গেলে, ওই সময় লাকি খাতুন দক্ষিণ ভরাট গ্রামের টিপু সুলতানের ছেলে শিমুল হোসেনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তিনি মিঠনকে তালাক দিয়ে শিমুলকে বিয়ে করেন বলে জানা গেছে।
এদিকে, শিমুলও প্রবাসে চলে গেলে লাকি তার বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন। এ খবর পেয়ে মিঠন আলী প্রবাস থেকে দেশে ফিরে আসেন। অভিযোগ রয়েছে, রবিবার দুপুরে তিনি ১৫-২০ জনকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে শিমুলের বাড়িতে প্রবেশ করেন এবং লাকি খাতুনকে জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।
প্রবাসী শিমুলের বাবা টিপু সুলতান অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। তার অনুপস্থিতিতে একদল লোক বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর, লুটপাট এবং তার পুত্রবধূকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। বাধা দিতে গেলে তার আত্মীয় হাসান আলীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়।
অন্যদিকে, লাকি খাতুন জানান, আগের স্বামী মিঠন তাকে নিয়মিত গালাগাল করতেন এবং ভরণপোষণ দিতেন না। তাই তিনি ছয় মাস আগে তালাক দিয়ে শিমুলকে বিয়ে করেন। তিনি অভিযোগ করেন, মিঠন লোকজন নিয়ে এসে তাকে জোর করে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যান।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মিঠন আলী বলেন, তাকে তালাক দেওয়া হয়েছে কি না তা তিনি জানেন না এবং এর কোনো প্রমাণও নেই। তিনি দাবি করেন, লাকি তার কাছ থেকে প্রায় ৬ লাখ টাকা ও ৩ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে চলে গেছেন। টাকা-পয়সা ফেরত চাইতে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন তার ওপর হামলা চালায়।
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার জানান, ঘটনার বিষয়ে তিনি অবগত আছেন। তবে এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পড়ুন- আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে দরপতন
দেখুন- রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রসঙ্গে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী


