24.9 C
Dhaka
০৩/০৩/২০২৬, ২১:৫৬ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনে নিহত ১ লাখ মানুষ: গবেষণা

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় টানা দুই বছর ধরে আগ্রাসন চালিয়ে আসছে ইসরায়েল। এই বর্বর আগ্রাসনে নিহত হয়েছেন এক লাখেরও বেশি মানুষ। জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউটের একটি নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে এমন তথ্য।

বিজ্ঞাপন

জার্মান গবেষণাটিতে সরকারি পরিসংখ্যানের বাইরেও বিপুল প্রাণহানির চিত্র সামনে এসেছে। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) বার্তাসংস্থা আনাদোলু এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।

সংস্থাটি জানায়, গাজায় চলমান যুদ্ধে মৃতের সংখ্যা এতদিন যা ধারণা করা হচ্ছিল, বাস্তবে তা আরও অনেক বেশি হতে পারে। সোমবার জার্মান সাপ্তাহিক পত্রিকা জাইট এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। জার্মানির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বন্দরনগরী রস্টকের খ্যাতনামা ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর ডেমোগ্রাফিক রিসার্চের গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে অন্তত এক লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটেছে।

গবেষণা প্রকল্পের কো–লিডার ইরিনা চেন বলেন, “সঠিক মৃতের সংখ্যা আমরা কখনোই জানতে পারব না। আমরা শুধু যতটা সম্ভব বাস্তবসম্মত একটি অনুমান করার চেষ্টা করছি।”

গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম দুই বছরে গাজায় ৯৯ হাজার ৯৯৭ থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার ৯১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের গড় অনুমান ১ লাখ ১২ হাজার ৬৯ জন।

ম্যাক্স প্ল্যাঙ্কের গবেষকরা বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে এই পরিসংখ্যান তৈরি করেছেন। গাজাভিত্তিক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যের পাশাপাশি তারা স্বাধীন পরিবারভিত্তিক সমীক্ষা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত মৃত্যুসংবাদও বিশ্লেষণে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

এতদিন মৃত্যুর সংখ্যার একমাত্র সরকারি উৎস ছিল গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। যুদ্ধের প্রথম দুই বছরে তারা ৬৭ হাজার ১৭৩ জনের মৃত্যুর কথা জানায়। তবে জাইট–এর প্রতিবেদনে বলা হয়—এ তথ্য নিয়ে কোনো ধরনের পরিসংখ্যানগত কারসাজির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বরং বিভিন্ন গবেষণা দল ইতোমধ্যে দেখিয়েছে—স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সাধারণত রক্ষণশীল হিসাব করে থাকে। এখন স্পষ্ট হয়েছে যে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধ চলাকালে সরকারি সংখ্যার বাইরে বাস্তবে আরও বেশি মানুষ মারা গেছেন। বিভিন্ন গবেষণায় অপ্রকাশিত মৃত্যুর সংখ্যা বেশি—এ তথ্য বারবার উঠে এসেছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সাধারণত নিশ্চিত মৃত্যুর তথ্য—যেমন হাসপাতাল থেকে ইস্যুকৃত মৃত্যু সনদের ভিত্তিতে—গণনা করে। যুদ্ধের কারণে অনেক হাসপাতালে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় এখন তারা স্বজনদের দেওয়া মৃত্যুসংবাদও গ্রহণ করছে; পরে একটি প্যানেল সেগুলো যাচাই করে। তবে বোমায় বিধ্বস্ত ভবনের ধ্বংসস্তূপে যারা মারা যান, তাদের অনেকেই এসব রেকর্ডে ধরা পড়ে না।

ম্যাক্স প্ল্যাঙ্কের গবেষণা দলটি আগের গবেষণার ভিত্তিতে আরও বিস্তারিত মৃত্যুহার বিশ্লেষণ করেছে। তারা পুরুষ ও নারী এবং বয়সভেদে পৃথকভাবে হিসাব পরীক্ষা করেছে।

এই পদ্ধতিতে শুধু মোট মৃত্যুর সংখ্যা আরও নির্ভুলভাবে জানা যায় না, বরং কোন বয়স ও লিঙ্গের মানুষ বেশি মারা গেছেন—সেই বিস্তারিত চিত্রও পাওয়া যায়। লিঙ্গ ও বয়সভেদে মৃত্যুর তথ্য পরিবর্তিত হয়; নারীদের মৃত্যু অনেক সময় পুরুষদের তুলনায় কম নথিবদ্ধ হয়, আর ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের মৃত্যু প্রায়ই সরকারি হিসাব থেকে বাদ পড়ে।

গবেষকদের হিসাবে, মৃতদের প্রায় ২৭ শতাংশই ১৫ বছরের কম বয়সী শিশু এবং প্রায় ২৪ শতাংশ নারী।

পড়ুন: বাংলাদেশে সরবরাহের জন্য ১ লাখ টন চাল কিনছে পাকিস্তান

আর/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন