মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ) গাজায় ত্রাণ সরবরাহে কোনো ভূমিকা রাখতে পারবে না। একই সঙ্গে গাজার ভবিষ্যৎ প্রশাসনে হামাসের কোনো সম্পৃক্ততার সম্ভাবনাও প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।
শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) ইসরাইল সফরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রুবিও বলেন, গাজার ভবিষ্যৎ প্রশাসনে হামাসকে সম্পূর্ণভাবে বাদ রাখতে হবে। এছাড়া গাজায় ত্রাণ সরবরাহে ইউএনআরডব্লিউএ কোনো ভূমিকা রাখতে পারবে না। কারণ সংস্থাটি হামাসের এক সহযোগী শাখায় পরিণত হয়েছে।
ইউএনআরডব্লিউএ নিয়ে রুবিও ইসরাইল সরকারের বক্তব্যই প্রতিধ্বনি করলেন। তবে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) এরইমধ্যে এই দাবিকে ভিত্তিহীন বলে খারিজ করে দিয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গাজায় আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী গঠন করে অঞ্চলটির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে চায় ওয়াশিংটন, যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার অংশ। অনেক দেশই এই বাহিনীতে অংশ নিতে আগ্রহী, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে ইসরাইলের সম্মতির ওপর।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে ইউএনআরডব্লিউএ বলেছে, গাজায় তাদের উপস্থিতি ‘বিধ্বস্ত ও অনাহারে থাকা এই ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে জরুরি মানবিক চাহিদা পূরণে অপরিহার্য’। ইসরাইলের প্রাণঘাতী সামরিক অভিযানে গত দুই বছরে উপত্যকায় ৬৮ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) স্বীকৃতি দিয়েছে—গাজাবাসীর সহায়তায় ইউএনআরডব্লিউএ’র বিকল্প কোনো প্রতিষ্ঠান হতে পারে না।
জাতিসংঘ মহাসচিবের উপমুখপাত্র ফারহান হকও রুবিওর মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আপনারা এরইমধ্যেই শুনেছেন, ইউএনআরডব্লিউএর সঙ্গে হামাসের কোনো সম্পর্ক নেই। ইউএনআরডব্লিউএ গাজায় আমাদের মানবিক কার্যক্রমের মেরুদণ্ড।
এদিকে মিশরের রাজধানী কায়রোতে বৈঠক শেষে যৌথ বিবৃতিতে ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক দলগুলো জানিয়েছে, তারা গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখবে এবং প্রশাসন হস্তান্তর করবে একদল স্বাধীন টেকনোক্র্যাটের হাতে। তাদের মতে, এই পদক্ষেপ যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন ও জাতীয় ঐক্যের পথে একটি বাস্তবসম্মত অগ্রগতি।
তবে এখনও অবরুদ্ধ রয়েছে গাজা উপত্যকা। ইসরাইলের কঠোর নিয়ন্ত্রণে আটকে আছে ত্রাণ, জ্বালানি ও ওষুধের সরবরাহ। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, গাজার মানবিক সংকট অপরিবর্তিত। ত্রাণ প্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন হাজারো মানুষ। মারাত্মকভাবে কমে এসেছে চিকিৎসা ও আশ্রয়সুবিধা। শীত আসার সঙ্গে সঙ্গে ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বিপর্যয়।
পড়ুন : যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গাজায় ক্ষুধা সংকট ‘বিপর্যয়কর’ : ডব্লিউএইচও প্রধান


